ইতিহাসের ভয়াবহ ডেঙ্গু দেখলো দেশ

দেশের ইতিহাসে এ বছর সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ও মৃত্যুবরণ করেছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে সামনের বছরগুলোতে একই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে তা হবে মারাত্মক।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। বছরের বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৭০৫ জনের।

২০০০ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গত ২২ বছরে এত রোগী আগে আর কোনো বছর দেখা যায়নি। এর আগে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় ২০১৯ সালে। ওই বছর রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ১ হাজার ৩৫৪।

এর আগে ২০২২ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো ডেঙ্গুতে। ওই বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৮১ জন।

রোববার ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এদিন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৩৫ জন ও ঢাকার বাইরের ৭১ জন।

বছরের বিভিন্ন সময়ে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা এক লাখ ১০ হাজার ৮ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন।

বর্তমানে ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৯৫ এবং ঢাকার বাইরের ৪৩০ জন।

ডেঙ্গু এবার অতিদ্রুত দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ঢাকা শহরের চেয়ে ঢাকার বাইরে ছিলো বেশি।

বিভিন্ন সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান তিন লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন এক লাখ আট হাজার ৭৩৩ জন এবং ঢাকার বাইরের দুই লাখ ১০ হাজার ১৬ জন।

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার হার ৯৯ শতাংশ। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭২৫ জন। ভর্তির হার শূন্য শতাংশ এবং মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে এডিস মশাবাহী এই রোগে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।