সাপের কামড়ে দেশে কতজন মারা গেছে, তা জানে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আক্রান্তের সংখ্যা কতো তাও জানে না তারা। নেই প্রচলিত অ্যান্টিভেনমের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো গবেষণাও।
রাসেলস ভাইপারের আনাগোনায় নড়েচড়ে বসা অধিদপ্তর বলছে, এখন তাদের কাছে প্রায় ২০ হাজার ভায়াল অ্যান্টিভেনম আছে। এই মজুদ যথেষ্ট না হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে আরও ১০ হাজার ভায়াল অ্যান্টিভেনম চাওয়া হয়েছে। নিরীক্ষা চলছে নতুন অ্যান্টিভেনম নিয়ে।
গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিষধর রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি ও আতঙ্ক। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানে না বাংলাদেশে বছরে কত মানুষ সাপের দংশনে আক্রান্ত হয়। রাসেলস ভাইপারের আনাগোনা বাড়ায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যের কর্তারা। শুরু করেছেন সাপের দংশন নিয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ।
সাপের প্রধান চিকিৎসা অ্যান্টিভেনম। সাধারণত সাপে কাটা রোগীকে ২ থেকে ৩ ডোজ এন্ডিভেনম প্রয়োগ করলে তারা বেঁচে যান কিন্তু সম্প্রতি ৮ ডোজ অ্যান্টিভেনম দেয়ার পরেও মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানেই না কোন সাপে কেটেছে।
এবছর অধিদপ্তর প্রায় ২০ হাজার ভায়াল মজুদের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। এরইমধ্যে ১৬ হাজার ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেশের বিভিন্নপ্রান্তে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ৪ হাজার ভায়াল হাতে এলেই সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ) ডা. রোবেদ আমীন বলেন, আমরা যেসব অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করছি সেটা ভারতের সাপের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। আমাদের দেশের সাপের কামড়ে এগুলো কাজ করবে কিনা তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ডা. রোবেদ আমীন আরও জানান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে থাকা ভেনম রিসার্চ সেন্টারে এ নিয়ে কাজ চলছে।
প্রচলিত অ্যান্টিভেনমের বাইরে কেবল রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে মৃত্যু প্রতিরোধে থাইল্যান্ডের প্রস্তুতকৃত একটি ভেনমের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই নিরীক্ষা সফল হলে মৃত্যুর হার কমবে।
হঠাৎ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও প্রায় ১০ হাজার অ্যান্টিভেনম চাওয়া হয়েছে।