ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নেই, তবে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু চিকিৎসায় সব ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গাইডলাইন বা প্রটোকল মেনে চিকিৎসা দেওয়া সত্ত্বেও এডিস মশার ভ্যারিয়েন্ট বা ধরনের পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   

তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই, তবে আমরা ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করতে পারিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে ক্যানসার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য খাতে নতুন সংযোজন ও সম্প্রসারণসহ সামগ্রিক বিষয় অবহিতকরণ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এডিস মশার ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেকেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা দেওয়ার পরও অনেক রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য নতুন বড়ো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী এক ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে, যা ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   

ক্যানসার রোগীদের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ক্যানসার রোগীদের রেডিওথেরাপির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হতো। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে সরকার নতুন করে ১৭টি অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি রেডিওথেরাপি মেশিন বসানো হবে।

এছাড়া আধুনিক ও নিখুঁত অস্ত্রোপচারের জন্য দেশে ১০টি রোবটিক সার্জারি মেশিনের চাহিদা থাকলেও প্রাথমিকভাবে পাঁচটি মেশিন দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালু করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার।