দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও এর জটিল উপসর্গ নিয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৯ জন।
রোববার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক বুলেটিন ও বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া সিলেটে ২ জন, ময়মনসিংহে ১ জন এবং খুলনায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই নতুন প্রাণহানির মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ১০৪ জন এবং হামের বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৯২ জন রোগী মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৫৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মাধ্যমে দেশে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ায় মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ১২২ জনে।
বিভাগভিত্তিক নতুন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন বা নতুন করে আসা ১ হাজার ৩১৯ জন রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৩৮ জনই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫ জন, সিলেটে ১২৩ জন, খুলনায় ৭৫ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, রংপুরে ৪৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৮ জন (বা বুলেটিন অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন) রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।