ইকুয়েডরে কারাদাঙ্গা: নিহত বেড়ে ১১৬, ছয় জনের শিরচ্ছেদ

ইকুয়েডরের পেনিটেনসিয়ারিয়া দেল লিটোরাল কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন শতাধিক। আর এ ঘটনায় অন্তত ছয় জনকে শিরচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। 

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রেসিডেন্ট গিয়ারমো লাসো একথা জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট লাসো দেশটির কারাগার ব্যবস্থায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন, খবর বার্তা সংস্থা এপি'র।  

লাসো বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে অপরাধী গোষ্ঠীগুলো কারাগারকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। আমরা যেন প্রাণহানী এড়াতে পারি, ঈশ্বরের কাছে সেই মিনতি জানাই।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গুয়াইয়াস প্রদেশের পেনিটেনসিয়ারিয়া দেল লিটোরাল কারাগারে দাঙ্গার এ ঘটনাটি ঘটে। চলতি বছরে দেশটির কারাগারে তৃতীয়বারের মতো এমন দাঙ্গার ঘটনা ঘটলো। গত ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় অন্তত ৭৯ জন এবং জুলাই মাসে আরেক কারাগারে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছিলো।


দেশটির জাতীয় কারাগার ব্যুরো (এসএনএআই) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দাঙ্গায় গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের কারণে কারাগারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাড়াতে কারাগারের ভেতরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কারাগারের বাইরে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন আছে।

দাঙ্গার পর স্বজনদের খবর নিতে বহু মানুষ কারাগারটির সামনে জড়ো হন। এ সময় কারাবন্দিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন তারা। 

আরও পড়ুন: বৃদ্ধার মার খেয়ে লেজ গুটিয়ে পালালো চিতাবাঘ!

নিহত ও আহত বন্দিদের পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইকুয়েডরের কারাগার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

দেশটির মানবাধিকার ন্যায়পাল বলেছেন, ২০২০ সালে ইকুয়েডরের কারাগারে ১০৩ টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।


একাত্তর/আরবিএস