শান্তিতে নোবেল পেলেন সাংবাদিক মারিয়া ও দিমিত্রি

ফিলিপিন্স এবং রাশিয়ায় বাকস্বাধীনতার পক্ষে ‘সাহসী লড়াই’ -এ অবদান রাখার জন্য দুটি দেশের সাংবাদিক মারিয়া রেসা আর দিমিত্রি মোরাতভকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে। নোবেল কমিটি এই সাংবাদিক যুগলকে বর্ণনা করেছে -‘এই আদর্শের জন্য সংগ্রামরত সব সাংবাদিকদের প্রতিনিধি’ হিসেবে।

সম্মানজনক এই পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ মার্কিন ডলার)। নরওয়ের নোবেল ইনস্টিটিউট এই পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। তাদের বিজয়ী নির্বাচন করা হয়েছে বাছাই করা ৩২৯ জনের তালিকা থেকে।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ৩টায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

মারিয়া রেসার জন্ম ১৯৬৩ সালের ২ অক্টোবর ফিলিপিন্সের ম্যানিলায়। আর দিমিত্রি আন্দ্রেইভিচ মুরাতভের জন্ম রাশিয়ায় সামারায় ১৯৬১ সালে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন’র হয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় প্রায় দুই দশক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করেছেন মারিয়া রেসা। এখন তিনি ফিলিপাইনভিত্তিক অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইট র‌্যাপলার’র সহপ্রতিষ্ঠাতা। দিমিত্রি মোরাতভ রুশ সংবাদমাধ্যম নোভায়া গেজেতার এডিটর ইন চিফ।

২০২০ সালে পুরস্কার পেয়েছিল জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

সুইডিশ বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও মানব-হিতৈষী আলফ্রেড নোবেল যে ছয়টি পুরস্কারের প্রবর্তন করেছিলেন এটি তার একটি। কিন্তু এর রাজনৈতিক প্রকৃতির কারণে বিভিন্ন সময়ে এ পদক অন্য পাঁচটি ক্যাটাগরির চেয়ে অনেক বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে।

প্রসঙ্গত, ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল নিজের মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান।

আরও পড়ুন: রাণীনগরে ৮ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা

১৯৬৮ সালে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। সে বছর পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল। আইনসভার অনুমোদন শেষে তার উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থের সার্বিক তত্ত্বাবধান করা এবং নোবেল পুরস্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা। বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সুইডিশ অ্যাকাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে ভাগ করে দেওয়া হয়।


একাত্তর/আরএ