গত সপ্তাহে ভারতের অযোধ্যা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিনিয়র কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদের নতুন বই 'সানরাইজ ওভার অযোধ্যা: নেশনহুড ইন আওয়ার টাইম'। আর এই বই প্রকাশের জেরেই সালমান খুরশিদের নৈনিতালের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা।
সোমবার (১৫ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই বইয়ে হিন্দুত্ববাদীদের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো উগ্র ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর তুলনা করেন খুরশিদ। আর তাতেই তৈরি হয় উত্তেজনা।
ভারতের শাসক দল বিজেপি প্রকাশ্যেই অভিযোগ করে, সালমান খুরশিদ ভারতের হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেছেন এবং 'সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি' করছেন।
এই বিতর্ক শুরুর দিন মাত্র তিনদিনের মাথায় উত্তরাখন্ডের পাহাড়ে সালমান খুরশিদের বাড়িতে হামলা চালালো হিন্দুত্ববাদীরা। সেই বাড়ির একটা বড় অংশ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
ফেসবুক ও টুইটারে সালমান খুরশিদ নিজেই ওই ঘটনার যে ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, তার নৈনিতালে বাড়ির একটা অংশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।
খুরশিদ লিখেছেন, যে বন্ধুরা একদিন এখানে এসেছিলেন তাদের জন্য এই দরজা আমি খুলে দিতে চেয়েছিলাম। যদি বলি এটা কিছুতেই হিন্দুধর্ম নয়, তাহলে কি এখনও আমি ভুল বলব?
কুমায়ুন পুলিশের ডিআইজি নীলেশ আনন্দ জানিয়েছেন, এই আগুন লাগানোর ঘটনায় মোট ২১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাকেশ কপিল নামে ওই অঞ্চলের স্থানীয় একজন হিন্দুত্ববাদী অ্যাক্টিভিস্ট ও তার আরও বিশজন সহযোগীকে খোঁজা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সালমান খুরশিদের নতুন বই 'সানরাইজ ওভার অযোধ্যা: নেশনহুড ইন আওয়ার টাইম'।
কংগ্রেস নেতা ও এমপি শশী থারুর এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে টুইটারে লিখেছেন, এটি চরম লজ্জাজনক। সালমান খুরশিদ এমন একজন স্টেটসম্যান যিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতকে বারে বারে গর্বিত করেছেন। তিনি একজন মধ্যপন্থী, সেন্ট্রিস্ট এবং চিরকাল এদেশে সবাইকে নিয়ে চলার কথা বলেছেন। আমাদের রাজনীতিতে অসহিষ্ণুতার বহর যেভাবে বাড়ছে, এদেশের ক্ষমতাসীনদের তার তীব্র নিন্দা করা উচিত।
তবে কংগ্রেসের একটা মহলও সালমান খুরশিদের বইয়ের সমালোচনা করেছেন।
একাত্তর/আরবিএস