মহাবিপর্যয়ের মুখে থাকা মালদ্বীপকে বাঁচানোর আকুতি

বৈশ্বিক তাপমাত্রা সীমিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অর্থ মালদ্বীপের মতো দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেয়া। তাদের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ধ্বংস করে ফেলা।

বিজ্ঞানীদের এমন সতর্কতার পরও নির্বিকার বিশ্বনেতারা। করোনায় আর্থিক বিপর্যয়ে বাধার মুখে মালের উদ্যোগও। এ অবস্থায় কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবিদরা। 

আকাশের নীল, সাগরের স্বচ্ছ নীলাম্ব জলরাশি, সবুজ-শ্যামলের আচ্ছাদন। মায়াবী-মোহনীয় মালদ্বীপ। ১২০০ দ্বীপ নিয়ে এই দ্বীপরাষ্ট্র। 

১৮৯টি দ্বীপে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দার বাস। সাগর থেকে দ্বীপগুলোর উচ্চতা মাত্র তিন দশমিক তিন ফুট। সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি, শক্তিশালীর ঘূর্ণিঝড়ে হুমকিতে দেশটি। 

বিশুদ্ধ পানির সংকটও তীব্র। বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উপরই নির্ভর করছে তাদের অতি নিকটের ভবিষ্যত। আগাম খুঁজতে হচ্ছে নতুন ঠিকানা। 

ভারত মহাসাগরের অন্যান্য দ্বীপের মতো দ্বীপটির অর্থনীতির অধিকাংশই নির্ভরশীল পর্যটনের উপর। তাই অতিথি আপ্যায়ন থেকে পরিবেশ রক্ষায়, অধিক সচেতন পর্যটনখাতগুলো। 

প্লাস্টিকের ব্যবহার শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ব্যবহার করা হয় কাঁচের বোতল। ভোক্তাদের সরবরাহ করা হয় রাসায়নিকমুক্ত টাটকা পণ্য।

আরও পড়ুন: পর্যটনের স্বর্গরাজ্য মালদ্বীপ থেকে যা শেখার আছে

বৈশ্বিক উষ্ণতায় হুমকিতে তাদের প্রবাল প্রাচীর। অতিরিক্ত গরমে প্রবাল সাদা হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপর মারা যায়। হারিয়ে যায় প্রবালের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৪ শতাংশ প্রবাল হারিয়ে গেছে। তবে, পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে মালদ্বীপ। 

প্রবাল রক্ষায় প্রাচীর নির্মাণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাজেটের অর্ধেক ব্যয় করে দেশটি। কিন্তু করোনায় পর্যটনে ধ্বস নামায় অর্থনীতির এক তৃতীয়াংশ ছোট হয়ে গেছে। 

২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে একমত হয় বিশ্বনেতারা। 

২০৩০ সালের মধ্যে তা ছাড়িয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ অবস্থায় জলবায়ু রক্ষায় কার্যকরি পদক্ষেপ না নিলে মহাবিপর্যয়ের পড়বে মালদ্বীপের মতো নিচু দ্বীপগুলো।