বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি 'ক্রেডিট সুইস'। গ্রাহকদের পরিচয় ও তথ্য গোপনের পাশপাশি অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুইজারল্যান্ডের এ ব্যাংকগুলোর বিকল্প নেই। কিন্তু এবার সেই ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের ১৮ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্টের নথি ফাঁস হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্রেডিট সুইসের এসব ফাঁস হওয়া নথিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসক, দুর্নীতিবাজ, ব্যবসায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, মাদক ও মানব পাচারকারীর অ্যাকাউন্টের তথ্য রয়েছে।
গার্ডিয়ান বলছে, ক্রেডিট সুইসের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ১০ হাজার কোটি ডলার।
ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে ১৯৪০ এর দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহকের তথ্য রয়েছে।
ক্রেডিট সুইস কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগগুলো মূলত অনেক আগের। যখন এ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আইন, অনুশীলন এবং শর্তগুলো এখনকার থেকে আলাদা ছিলো তখন এই অ্যাকাউন্টগুলো খোলা হয়েছে। ফলে এজন্য কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি দায়ি করা ঠিক হবে না।
সম্প্রতি এক স্বঘোষিত হুইসেলব্লোয়ার (গোপন তথ্য ফাঁসকারী) ক্রেডিট সুইসের এসব তথ্য ফাঁস করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।
ওই ব্যক্তি, ব্যাংকটির ১৮ হাজারের বেশি হিসাব সম্পর্কিত তথ্য জার্মান সংবাদমাধ্যমে সরবরাহ করেন। পরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন অর্গানাইজিং ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, লা মঁদেসহ ৩৯ দেশের ৪৮টি সংবাদমাধ্যম সেসব নথি বিশ্লেষণ করে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেডিট সুইসের ১৫ লাখ গ্রাহকের মধ্যে কেবল একটি অংশের তথ্যই ফাঁস হয়েছে। তবে এসব অ্যাকাউন্টের সবগুলোই সক্রিয় নয়। অনেক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে, অনেকের মৃত্যুও হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে কিছু অ্যাকাউন্ট এখনো চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৬৫
এদিকে এসব তথ্য ফাঁসের ফলে বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেক জনপ্রিয় লোকের নামও উঠে আসছে। যারমধ্যে রয়েছেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং মিসরের সাবেক একনায়ক হুসনি মোবারকের দুই ছেলে। এছাড়াও পাকিস্তানের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের নামও এসেছে তালিকায়।
এছাড়া আরও অন্তত ৪০ জনের নাম পেয়েছেন সাংবাদিকরা, যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যারমধ্যে ভেনেজুয়েলার সাবেক আর্মি ক্যাপ্টেন কার্লোস লুই অ্যাগুইলেরা বোর্হাস, ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিসের সাবেক প্রধান ভ্যালেরি খোরশকোভস্কি, মিসরের সাবেক গুপ্তচর আশরাফ মারওয়ানের নাম রয়েছে। পাশাপাশি নাম রয়েছে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, জার্মানি, নাইজেরিয়া, উজবেকিস্তান, ইরাক, জর্ডান, ইয়েমেনের বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের।
একাত্তর/আরবিএস