অ্যান্টার্কটিকা উপকূলে ডুবে যাওয়ার প্রায় এক শতাব্দিরও বেশি সময় পর মেরু অনুসন্ধানকারী আর্নেস্ট শ্যাকেলটনের জাহাজ এইচএমএস এনড্যুরেন্সের খোঁজ পাওয়া গেছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগরে ওয়েডেল সাগরের প্রায় তিন হাজার মিটার গভীরে জাহাজটি খুঁজে পান ফকল্যান্ড মেরিটাইম হেরিটেজ ট্রাস্টের সদস্যরা।
১৯১৫ সালে ডুবে যাওয়া জাহাজটি প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
ফকল্যান্ড মেরিটাইম হেরিটেজ ট্রাস্টের পরিচালক মেনসুন বাউন্ড এক বিবৃতিতে বলেন, এটি তার দেখা সবচেয়ে সুন্দর কাঠের জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। এটি অক্ষত এবং দারুণভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় আছে।
কে ছিলেন আর্নেস্ট শ্যাকেলটন?
আর্নেস্ট শ্যাকেলটন ছিলেন একজন আইরিশ-ব্রিটিশ অনুসন্ধানকারী। দক্ষিণ মেরু অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে তিনি চারবার অভিযানে বেরিয়েছিলেন।
১৯১৪ সালে যুক্তরাজ্য থেকে রওনা হয়ে অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমারডো সাউন্ডে পৌঁছায় এইচএমএস এনড্যুরেন্স।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ওয়েডেল সাগরে বরফে আটকে যায় জাহাজটি। শ্যাকেলটনসহ ২৮ নাবিক বাধ্য হয়ে জাহাজটিকে ফেলে এলিফ্যান্ট আইল্যান্ডে চলে যান।
অভিযান ব্যর্থ হলেও, সবাই অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসাকেই বিশাল জয় হিসেবে দেখা হয়েছিলো। সেইসাথে তাদের সহ্যশক্তি ও শ্যাকেলটনের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছিলেন সবাই।
আরও একটি অভিযান পরিচালনার পর ১৯৪৭ সালে সাউথ জর্জিয়া আইল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেন শ্যাকেলটন।
এনড্যুরেন্সকে কীভাবে খুঁজে পাওয়া গেলো?
পরিত্যক্ত জাহাজটি সময়ের সাথে সাগরের অতলে তলিয়ে যায়। গত ১০৭ বছর ধরে সমুদ্রের তলদেশেই ছিল এটি।
এনড্যুরেন্সকে উদ্ধার করতে একটি দল দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন থেকে রওনা হয়। তাদের মিশনের নাম দেয়া হয় এনড্যুরেন্স২২।
এ দলে ছিলেন বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাদের অভিযান নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের কথা রয়েছে।
এনড্যুরেন্সের ক্যাপ্টেন ফ্র্যাঙ্ক ওয়ার্সলি জাহাজের সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে যে জায়গার কথা বলেছিলেন, সেখানে গিয়ে সেবারটুথ হাইব্রিড আন্ডারওয়াটার সার্চ ভেহিকল ব্যবহার করে জাহাজটি শনাক্ত করে অভিযাত্রিক দল।
অ্যান্টার্কটিক চুক্তি অনুযায়ী, জাহাজটিকে এখন আর এর জায়গা থেকে সরানো হবে না। যেখানে আছে সেখানেই রেখে এটি নিয়ে গবেষণা করবেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা।
অভিযাত্রিক দলের প্রধান ড. জন শিয়ার্স বলেন, অভিযানের সময় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো, যাতে নতুন প্রজন্ম মেরু অভিযানের দারুন সব গল্প প্রত্যক্ষ করতে পারে। মানুষ একসাথে কাজ করলে কী অর্জন করা সম্ভব তা শেখার জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ ছিল।
একাত্তর/এসজে