ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও তার দেশের আকাশে ‘নো-ফ্লাই জোন’ আরোপে কিয়েভের মিত্রদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এটি করা তাদের দায়িত্ব এমন মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এই ব্যবস্থা ছাড়া ইউক্রেনে মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব নয়।
বুধবার প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা না করার ফলে ইউক্রেনে মানবিক বিপর্যয়ের জন্য তাদের মিত্ররাই দায়ী থাকবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার আবারও যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রুশ আগ্রাসনের প্রথম দিন থেকে ইউক্রেনে উপর আকাশসীমায় উড়ান চলাচল বন্ধ করতে বন্ধু দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ করে আসছেন তিনি। বলছেন, এটি না হলে ইউক্রেনিয় মানুষের মৃত্যুর জন্য বন্ধুরাও দায়ী থাকবে।
তিনি আরো বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জনগণকে হত্যা করতে, তাদের সব অবকাঠামো ধ্বংস করতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করে যাচ্ছে। জেলেনস্কি দাবি করেন, মারিওপোলে একটি হাসপাতালে রাশিয়া সরাসরি হামলা চালিয়েছে।
এই হাসপাতালটি প্রসূতি ও শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট করা উল্লেখ করে জেলেনস্কি জানান, সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক নারী ও শিশু আটক আছে। তিনি এই হামলাকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, দয়া করে আকাশসীমা বন্ধ করুন।
আরও পড়ুন: এবার ইউক্রেনে পোলিশ যুদ্ধবিমান পাঠাতে জার্মানির 'না'
অবিলম্বে ইউক্রেনের আকাশে ‘নো ফ্লাই জোন’ কার্যকরের জন্য আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, আপনাদের ক্ষমতা আছে, কিন্তু আপনারা মানবতা হারিয়ে ফেলছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো বারবার নো-ফ্লাই জোনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বিরুদ্ধে মারিউপোলে চার লাখেরও বেশি মানুষকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ করেছেন। দিমিত্রো কুলেবা টুইটে বলেন, নির্বিচারে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। প্রায় তিন হাজার নবজাতকের ওষুধ এবং খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।
তিনি রাশিয়ার আক্রমণ বন্ধ করতে বিদেশীদের প্রতি আবারও আহবান জানিয়ে কুলেবা জানান, মারিউপোলে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে পুতিনের বাহিনী। শহরের অবস্থা শোচনীয়। পানি, বিদ্যুৎ ও ঘরবাড়ি গরম রাখার ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধে বিপর্যস্ত রাজধানী কিয়েভের কিছু অংশ, খারকিভ, চেরনিহিভ, সুমি ও মারিওপোলে অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি চেয়েছে কিয়েভ। এজন্য ছয়টি নিরাপদ করিডোর করে দেয়ার কথা জানিয়েছে মস্কো।
বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়া মানুষদের প্রথম দলগুলো ইতোমধ্যেই বাসে করে নিরাপদ জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। রাশিয়া অভিযান শুরু করার পর ইউক্রেনে থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ ৩০ হাজার লোক পালিয়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
এদিকে, ইউক্রেনে রাজধানী কিয়েভের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে রাশিয়ান বাহিনীর অব্যাহত আক্রমণের মুখে সেখানে প্রচণ্ড লড়াই চলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তুরস্কের আনতালিয়া শহরে বৃহস্পতিবার ইউক্রেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট গত কয়েকদিনের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সাথে কথাবার্তা বলার পর- ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেছেন, আলোচনা এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
আর জার্মানি বলেছে, তারা ইউক্রেনে কোন যুদ্ধবিমান পাঠাবে না। এর আগে পোল্যান্ড প্রস্তাব দেয়, জার্মানির একটি মার্কিন ঘাঁটির মাধ্যমে তাদের হাতে থাকা রুশ-নির্মিত মিগ-২৯ জেটগুলোকে ইউক্রেনে পাঠাতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, গত সপ্তাহে ইউক্রেনের চেরনিহিভ শহরে খাদ্যের জন্য লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের ওপর বিমান হামলার ঘটনাটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করে দেখা উচিত। ওই আক্রমণে বহু লোক নিহত হয়।