যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করতে এদের কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না, তেষ্টা মেটাতে এক ফোঁটা পানিরও দরকার পড়ে না! রক্ত-মাংসের মানুষ নয়, অথচ শত্রুর ডেরায় ঢুকে নিখুঁত নিশানায় হানা দিতে ওস্তাদ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছর পার করে এবার সীমান্ত যুদ্ধে এক অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর ‘কমান্ডো বাহিনী’ নামিয়েছে ইউক্রেন। রুশ সেনারা এই বিশেষ বাহিনীর নাম দিয়েছে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ বা নিঃশব্দ মৃত্যু। কারণ, এরা এত চুপিসাড়ে হামলা চালায়, মাত্র ১০ মিটারের মধ্যে না এলে শত্রুপক্ষ এদের উপস্থিতিও টের পায় না! আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তে রাশিয়ার বিশাল সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এখন আর মানুষ নয়, বরং এই ‘যন্ত্রসেনা’ বা রোবোটিক কমান্ডোরা। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইউক্রেন বর্তমানে তীব্র সেনা সংকটে ভুগছে। পুতিন বাহিনীর কামানের গোলার সামনে দেশের রক্ত-মাংসের তরুণ সেনাদের অকালমৃত্যু ঠেকাতে এবং সেনার ঘাটতি মেটাতে এবার পুরোদস্তুর প্রযুক্তি ও রোবটের শরণাপন্ন হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। পশ্চিমের দেশগুলো থেকে সামরিক অস্ত্রের জোগান সচল থাকলেও, রণক্ষেত্রে সেনার বিকল্প হিসেবে এই শয়ে শয়ে যন্ত্রসেনাই এখন কিয়েভের মূল ভরসা।

দূর নিয়ন্ত্রিত (রিমোট কন্ট্রোল) এই বিশেষ কমান্ডোরা যুদ্ধক্ষেত্রের নিখুঁত লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারে। কোন কৌশলে শত্রুপক্ষকে কোণঠাসা করা যাবে, সে বিষয়ে এরা অত্যন্ত দক্ষ। গত এপ্রিল মাসে জ়েলেনস্কি গর্বের সাথে দাবি করেছিলেন যে, রুশ সেনাদের হাত থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেনাচৌকি পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী এবং সেই পুরো অভিযানে কোনো মানুষের রক্ত ঝরেনি; অপারেশন সফল করেছিল শুধুই এই যন্ত্রসেনারা। জ়েলেনস্কির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযানে প্রায় ২২ হাজার যন্ত্রসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ইউক্রেনের এক শীর্ষ সেনাকর্তা আফসোসের সুরে জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি যদি যুদ্ধের শুরুতে আমাদের হাতে আসত, তবে হাজার হাজার তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যেত না। প্রতিনিয়ত যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে, এখন লড়াইটা প্রযুক্তির।

সামরিক শক্তিতে রাশিয়ার চেয়ে বহুগুণ পিছিয়ে থেকেও এই রোবোটিক প্রযুক্তির জোরেই মস্কোর চোখরাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছে কিভ। ইউক্রেনীয় সেনা কর্মকর্তারা এখন মাসে অন্তত ৩৫ হাজার রুশ সেনা হত্যার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ’র একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ রুশ সেনার মৃত্যু হয়েছে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পর ইউক্রেনের ‘সাইলেন্ট ডেথ’ কমান্ডোদের এই ব্যাপক অনুপ্রবেশ রুশ শিবিরের কপালে যে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
