কিয়েভের চারদিকে হামলা জোরদার করছে রাশিয়া

যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ফল আলোচনার পর, শুক্রবার রাজধানী কিয়েভে হামলা জোরদার করেছে মস্কো। 

শনিবার (১২ মার্চ) ভোর থেকে ইউক্রেন জুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে চলছে। দেশটির কমপক্ষে ১৫ অঞ্চল এবং বহু শহরে সাইরেন বেজে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

রাজধানী কিয়েভের পাশাপাশি দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ শহর ওডেসা, উত্তর দিকের সুমি, পূর্ব দিকে খারকিভ এবং দক্ষিণপূর্ব দিকের দানিপ্রোতে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। 

রুশ সেনাদের বিশাল বহর ভাগ হয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ঘিরে অবস্থান নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার সৈন্যরা এখন আস্তে আস্তে রাজধানী কিয়েভ ঘিরে ফেলছে।

কিয়েভের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে আবার অগ্রসর হতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী। কিয়েভ অভিমুখে যে বিশাল সামরিক বহরটি এগিয়ে যাচ্ছিলো, সেটি আবারও সংঘবদ্ধ হচ্ছে। 

সুমি শহর থেকেও রাশিয়া একটি বহর কিয়েভের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো নতুন তিনটি শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

 

কিয়েভ সরকারের দাবি, দুদেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় পর বড় শহরগুলো আবারও হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরেও এমন পরিস্থিতির তথ্য আসছে। 

ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান শহর দানিপ্রোর ওপর হামলা শুরু করেছে রুশ বাহিনী। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম শহরটির ওপর রাশিয়া হামলা শুরু করলো। 

ভারী শিল্পের জন্য বিখ্যাত এই শহরটিতে রকেট ফ্যাক্টরি রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে রুশ সৈন্যদের যাতায়াতের জন্যও কৌশলগতভাবে শহরটি গুরুত্বপূর্ণ। 

নতুন করে ইউক্রেনের আরও তিন শহর লুৎস্ক, ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক এবং নিপরো শহরে প্রথমবার হামলা হয়েছে। লুৎস্ক ও ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক শহরে সারারাত ধরে বোমাবর্ষণ করেছে রাশিয়া।

খারকিভেও বিমান থেকে বিরতিহীনভাবে বোমা হামলা হচ্ছে। অন্যান্য স্থাপনার পাশাপাশি অন্তত ৪৮টি স্কুল ধ্বংস হয়েছে। দক্ষিণের শহর মারিওপোল এখনো অবরুদ্ধ করে রেখেছে রুশ সেনারা।

মারিওপোল নিকটবর্তী ভলনোভাখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ সেনারা। পাল্টাপাল্টি হামলায় মারিওপোল শহরে কয়েক লাখ মানুষ আটকা পড়েছে। 

পানি ও বিদ্যুৎহীন শহরটিতে দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। নিহতদের দেয়া হয়েছে গণকবর। জাতিসংঘ বলছে, এই এলাকার মেলিতোপোল শহর এবং খারকিভের বাসিন্দাদের ত্রাণ জরুরি। 

তবে উত্তরাঞ্চলে রুশ সেনাদের গতি কমেছে। বেলারুশ থেকে আসা রুশ সেনাদের বিশাল বহরটি চেরনোবিল হয়ে দানিয়েপার নদীর ওপর দিয়ে কিয়েভের দিকে আসছিল, তার গতি অনেক কমে গেছে। বহরটিতে জ্বালানি তেলের সংকট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন একটি প্রতিষ্ঠানের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমের আন্তোনভ বিমানবন্দরের কাছে অবস্থানরত রুশ সেনা বহর কয়েক ভাগে ভাগ কয়ে আশপাশের ছোট শহরগুলো ঘিরে অবস্থান নিয়েছে। 

৬৪ কিলোমিটার সড়কজুড়ে থাকা এই বহরে সাঁজোয়া যান, ট্যাংক ও কামান রয়েছে। কিয়েভের পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে তাদের অবস্থান দেখা গেছে। এছাড়া, উত্তরের রুবিয়াঙ্কা এবং উত্তর–পূর্ব দিকে দিয়েও এগিয়ে যাচ্ছে রুশ সেনারা।

রাশিয়ার বাহিনীকে প্রতিরোধে ইউক্রেনের সেনারাও চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরইমধ্যে কিয়েভের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ চলে গেছে। তাই, রুশ সেনাদের প্রতিরোধে এখন প্রতিটি বাড়ি একেকটি দুর্গে পরিণত হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর দেশটি থেকে ২৫ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।


একাত্তর/এআর