বিয়ে নিয়ে ইসরাইলের বর্ণবাদী আইন নবায়ন হয়েছে দেশটির পার্লামেন্টে। ওই আইনে পশ্চিমতীর বা গাজা থেকে বিয়ে করে ফিলিস্তিনিদের আনতে পারেন না আরব বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকরা। ২০০৩ সাল থেকে এ আইন বাস্তবায়ন হয়ে আসছে।
বিতর্কিত এ আইনের মূল বক্তব্য ইসরাইল ছাড়ো, নয় তো সম্পর্ক। উদ্দেশ্য, বিতাড়িত ফিলিস্তিনিরা যাতে নিজ ভূখণ্ডে ফিরতে না পারে।
ফিলিস্তিনের ভূমিতে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত। বসবাসের অনুমতি নেই পশ্চিমতীর, গাজার ফিলিস্তিনিদের। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিককে বিয়ে করে এক সময় থাকার সুবিধা, নাগরিকত্বও পেতেন তারা। ২০০৩ সালে বিতর্কিত আইনে তা আটকে দেয় ইসরাইল।
ইসরাইলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনটি তখন অস্থায়ীভাবে পাস হয়। পরবর্তীতে প্রতি বছর নবায়ন হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও আইনটি নবায়ন হয়েছে। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে, পক্ষে ভোট ৪৫টি, বিপক্ষে ১৫, ভোট দেননি ৬০ আইনপ্রণেতা।
ইসরাইলের জনসংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তারা পশ্চিমতীর বা গাজার ফিলিস্তিনিদের বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রীকে আনতে পারেন না। এখন তাদের ইসরাইল ছাড়তে হবে, নয়তো সম্পর্ক! সিরিয়া, লেবানন, জর্ডানের ক্ষেত্রেও তাই। তাদের শত্রু রাষ্ট্র ভাবে ইসরাইল।
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি আইনজীবী খালেদ জাবারকা বলেন, এ ধরনের আইন সরকারের সঙ্গে পার্লামেন্টকেও বর্ণাবাদী বলে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা বহাল রাখার জন্যই এ আইন। আরবদের অস্তিত্বে আঘাতই এ আইনের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: জাদুঘরে ঢুকতে না দেয়ায় দুই কর্মীকে ছুরিকাঘাত
আইনটিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ঢাল আখ্যা দিয়ে ইসরাইলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আয়েলেট শাকেদ জানান, সরকার-বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং ইহুদিদের দুর্গের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গাজা, পশ্চিমতীর থেকে কাউকে আনলে রাষ্ট্রদ্রোহ বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নিতে পারবে মন্ত্রণালয়।
সমালোচকরা বলছেন, ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে প্রাণ বাঁচাতে যারা পালিয়েছেন বা যাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, পশ্চিম তীর, গাজাসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া ওই ব্যক্তিরা যাতে ফিরতে না পারেন, বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেতে না পারেন সেই জন্যই এ আইন।
ইসরাইলের সিভিল রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী রওত শায়ের আইনটিকে বর্ণবাদী বলেছেন। আরব জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে তার মত। ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের ঘোষণা দিয়েছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।