ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতকে দলে পেলেন না জাপান

ভারত-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ভারত সফরের আগে জাপান জানিয়েছিল, ভারতকে ইউক্রেনে হামলার জন্য রাশিয়ার নিন্দা জানাতে পশ্চিমের গ্রহণ করা অবস্থানের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নীতিগত সমন্বয়ের  চেষ্টা চালাবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

তবে শেষমেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হলেও সেটি খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি বলে জানা গেছে। 

রোববার (২০ মার্চ) সকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ২৪ ঘণ্টার ভারত সফর শেষে  কম্বোডিয়ার উদ্দেশে নয়াদিল্লি ত্যাগ করেছেন। 

জাপান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীদ্বয় শনিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে নয়াদিল্লিতে এই শীর্ষ বৈঠকে বসেন। 

বৈঠকের পরে ২৩ অনুচ্ছেদের এক যৌথ বিবৃতি দেয় জাপান ও ভারত। 

এতে বলা হয়, ভারতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার পাশাপাশি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় অবাধ সমুদ্র চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দেশ অঙ্গীকার করেছে। 

বিশেষ কোনো দেশের উল্লেখ না করে পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে নিয়মভিত্তিক সমুদ্র চলাচল ব্যবস্থার সামনে দেখা দেওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বিবৃতিতে। 

একই সঙ্গে মিয়ানমারে সহিংসতা চলতে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির প্রতি গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হলেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি তাতে।

এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন বিষয়ে ভারতকে কাছে টানা জাপানের পক্ষে সম্ভব হয়নি বলেই এই বিবৃতিতে মনে হয়েছে।

যৌথ বিবৃতির দশম অনুচ্ছেদে ইউক্রেন সংকট নিয়ে সংক্ষেপে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের চলমান সংকট ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে এর প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন করেছেন তারা। 

সমস্যার সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান দুই নেতা পুনর্ব্যক্ত করেন। 

তবে, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য রাশিয়ার নিন্দার কোনো উল্লেখ যৌথ বিবৃতিতে নেই, এমনকি রাশিয়ার নামই এতে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে ইউক্রেন যুদ্ধের নিষ্পত্তি অবশ্যই হওয়া উচিত। 

তবে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে ইউক্রেন প্রসঙ্গের কোনো উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানগত পার্থক্য সুস্পষ্ট ফুটে উঠেছে। 


একাত্তর/জো