মানবিক বিপর্যয়ে মারিউপোল, কিয়েভের আশপাশে হামলা

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রায় একমাস হতে চললো। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে এখনো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ সেনারা। 

কিয়েভের পর সবচেয়ে বেশি শোচনীয় অবস্থা মারিউপোলের। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে সেখানে এক লাখের মতো মানুষ আটকা পড়েছেন। 

রাশিয়ার হামলায় খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে শহরটিতে। এনিয়ে বারবার বিশ্ববাসী দৃষ্টি আকর্ষণ করছে দেশটি।

বর্তমানে তিন লাখের মতো বাসিন্দা শহরটিতে থাকলেও অবরুদ্ধ করে রেখেছে রাশিয়ার সেনারা। তবে বাধা সত্ত্বেও মঙ্গলবার মারিউপোল থেকে সাত হাজার বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

এদিকে রাজধানী কিয়েভের ওবোলনস্কি জেলায় রুশ বিমান হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত একজন। আহত হয়েছে আরো তিন জন।


ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান

যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি রাশিয়ার সেনা সদস্য মারা গেছেন বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

সবশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আক্রমণ শুরুর পর রাশিয়ার ২০৯টি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। হাতছাড়া হয়েছে এক হাজার ৫৫৬টি সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ২৫২টি কামান। 

যদিও ইউক্রেনের এই দাবির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। ইউক্রেনের এই দাবির ব্যাপারে মস্কো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। 

২ মার্চ এক বিবৃতিতে রাশিয়া কেবল ৪৯৮ সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র জানায়, যুদ্ধে সাত হাজার রুশ সেনার মৃত্যু হতে পারে।

যুদ্ধবিরতির জন্য ইমরান খানের আহবান

রাশিয়া-ইউক্রেইনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চীন এবং ইসলামিক দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।  

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওআইসি’র ৪৮তম অধিবেশনে মঙ্গলবার একথা বলেন ইমরান। তিনি ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেইন মিনিস্টার অধিবেশনে উপস্থিত আছেন। 

আরও পড়ুন: শরণার্থীদের জন্য নোবেল বিক্রির ঘোষণা রুশ সাংবাদিকের

সেখানে ইমরান খান বলেন, সবারই চিন্তা করা উচিত কীভাবে মধ্যস্থতা করা যায়। কীভাবে একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো যায়। আর এ বিষয়ে আলোচনা দরকার। 

হয়ত ওআইসি এবং সঙ্গে চীন, সবাই মিলে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্বের জন্য তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।