ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এটি একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাতে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর কোরিয়া পূর্বদিকে সন্দেহজনক একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাকোতো ওনিকি বৃহস্পতিবার টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৬,০০০ কিলোমিটার (৩,৭০০ মাইল) উচ্চতায় পৌঁছায় এবং প্রায় ১১০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এটি নভেম্বর ২০১৭ সালের ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি উচ্চতা ও দূরত্ব অতিক্রম করেছে।
তবে এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি।
গেলো সপ্তাহেও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় কিম প্রশাসন। বুধবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের বাইরে একটি বিমান ঘাঁটি থেকে মিসাইলটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। তবে উৎক্ষেপণের পরপরই মিসাইলটি ধ্বংস হয়ে যায় বলে দাবি তাদের।
উল্লেখ্য, এ বছর এখন পর্যন্ত ১১টি ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। পূর্ণ মাত্রার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণের আগে পরীক্ষার অংশ হিসেবে এগুলো উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: 'গণহত্যা' নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নাকচ করলো মিয়ানমার
আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের নুন্যতম পাল্লা সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার। উত্তর কোরিয়া থেকে ছোঁড়া হলে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। এগুলো পারমাণবিক হামলার জন্য নকশা করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জাতিসংঘ।
একাত্তর/আরবিএস