পাকিস্তানে সরকার পতন রুখতে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে দেশটির তরুণদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
তরুণদের উদ্দেশে ইমরান খান বলেন, আমি চাই আপনারা আজ ও কাল প্রতিবাদ করুন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য বেরিয়ে আসুন।
শনিবার (১ এপ্রিল) বিকালে টেলিভিশন, রেডিও এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচারিত এক প্রশ্নোত্তর পর্বে এ আহবান জানান ইমরান।
দেশের তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ইমরান বলেন, আপনাদের চুপ করে বসে থাকার সময় নয় এটি, কারণ আপনি যদি চুপ থাকেন তবে আপনি খারাপের পক্ষে থাকবেন। আমি চাই আপনারা প্রতিবাদ করুন এবং এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলুন। আমার জন্য নয় আপনাদের ভবিষ্যতের জন্যই প্রতিবাদ করুন।
যুক্তরাজ্য যখন বেআইনিভাবে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করেছিল এবং ইরাকে আক্রমণ করেছিল, তখন ২০ লাখ মানুষ প্রতিবাদ করেছিল। এই প্রতিবাদ সহিংস ছিল না, একটি পাত্রও ভাঙা হয়নি তখন। আমি তাদের সাথে হেঁটেছি। কোনো রাজনৈতিক দল তাদের আহ্বান জানায়নি। তারা নিজেরাই এটি করেছিল। এটি একটি জীবন্ত জাতির লক্ষণ।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানায়, শনিবার বিকাল ৫টায় শুরু হওয়া ওই আয়োজনে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, আপনাদের (জনতা) টেলিফোন কল নেয়ার আগে, আমি আমার দেশের জনগণের সাথে পাঁচ মিনিট কথা বলতে চাই। কারণ এই মুহূর্তে পাকিস্তান একটি নির্ধারক বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে দু'টি পথ খোলা আছে, যা আমরা গ্রহণ করতে পারি। আমরা কি ধ্বংসের পথ নিতে চাই নাকি গৌরবের পথ? এই পথে অসুবিধা হবে কিন্তু এটা আমাদের নবীর পথ। এই পথ আমাদের ভালোর জন্য। এই পথ দেশে বিপ্লব এনেছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী এরপর দেশের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজনীতি আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জাতিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি আজ দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান। যে সমাজ সততা এবং ন্যায়বিচারের সাথে দাঁড়ায় সে সমাজ নতুন রকটি জীবন পায়। কিন্তু একটি সমাজ যখন নিরপেক্ষ হয়, তখন সে খারাপকে সমর্থন করতে শুরু করে।
ইমরান বলেন, বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এবং এটা প্রমাণিত হয়েছে যে সরকার পতনের জন্য রাজনীতিবিদদের বেচাকেনা শুধু হয়েছে, ঠিক ছাগল বেচাকেনার মতোই। ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল বিদেশে এবং এখানে মীর সাদিকরা বিদেশে এই লোকদের সাহায্য করছে।
ইতিহাস কখনই তাদের ভুলে যাবে না উল্লেখ করে ইমরান বলেন, আমি চাই পাকিস্তানের ইতিহাসও যেন এই বিশ্বাসঘাতকদের ভুলে না যায়। এটি আপনার দায়িত্ব। তাদের মনে হতে দেবেন না যে আপনি ভুলে গেছেন।
ইমরান খান আরও বলেন, জাতির সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের মুসলিমদের জন্য এ এক অন্য রমজান
আমি আজ আমার আইনজীবীদের সাথে দেখা করেছি এবং আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা তাদের মুক্ত হতে দেব না। তাদের সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কি ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিতে চাই তা আজ রাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রোববার (৩ এপ্রিল) পাকিস্তান পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে হেরে গেলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আবির্ভূত হকে পারেন শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমাদের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল ইমরানের।
একাত্তর/আরবিএস