পাকিস্তানের নতুন সরকারের সামনে বড় তিন চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক পালাবদলের ধারাবাহিকতায় নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে। সোমবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে নিয়োগ করা হবে ইমরান খানের উত্তরসূরিকে। টালমাটাল রাজনীতি আর অর্থনীতি নিয়ে কি কি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে দেশটির পরবর্তী সরকারের জন্য? 

বড় দাগে পাকিস্তানের নতুন সরকারের সামনে এখন তিনটি চ্যালেঞ্জ- অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সন্ত্রাসবাদ দমন ও বিদেশি পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সংকট সমাধানের সহজ কোনো উপায় নেই। তবে সমাধান করতে হলে নিতে হবে দ্রুত পদক্ষেপ। সেইসাথে প্রয়োজন আমূল সংস্কার। 

পাকিস্তানের বিরোধী জোট কয়েক সপ্তাহ ধরে বাধার পর বাধা অতিক্রম করে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। 

শনিবার (৯ এপ্রিল) মধ্যরাতে জাতীয় পরিষদের ১৭৪ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। 

এতে বিরোধীরা নিঃসন্দেহে জয় উদযাপন করতে পারেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে নয়। কারণ নতুন নেতৃত্বের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মাত্র একটি ছিল ইমরান খানকে হটানো।

নতুন সরকারকে এবার ইমরান সরকারের রেখে যাওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে সীমাহীন ঋণ, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও সন্ত্রাসবাদ। এছাড়াও বিদেশি শক্তির সঙ্গে অস্থিতিশীল সম্পর্কের বিষয়টি নতুন সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে।

প্রথমেই আসে অর্থনীতির প্রশ্ন। আর্থিক অব্যবস্থাপনার দায়ে ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। তাদের বর্তমান ঋণ একশ' ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জিডিপির প্রায় ৪৪ শতাংশ। মুদ্রাস্ফীতি ১২ শতাংশ। এক ডলার সমান ১৯০ রুপি। 

গত তিন বছর ধরে পাকিস্তানের জিডিপিও রয়েছে স্থবির হয়ে। দিকভ্রান্ত পাকিস্তানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তাই প্রয়োজন আমূল সংস্কার।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ সন্ত্রাসবাদ। আফগান তালেবানের সঙ্গে গভীর সম্পর্কযুক্ত পাকিস্তান তালেবান সম্প্রতি হামলা বাড়িয়েছে। পাক তালেবানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন ইমরান। তবে সে সমঝোতা ব্যর্থ হয়। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের জন্যও এ সংকট সমাধানের সহজ কোনো উপায় নেই। বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদও বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। 

পাকিস্তানের জন্য তৃতীয় চ্যালেঞ্জ বিদেশি পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করা। ইমরান সরাসরি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারকে উৎখাতের সাথে জড়িত, যা নতুন সরকারের সমস্যাই বাড়িয়েছে। 

আরও পড়ুন: ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: প্রথম ধাপে ম্যাক্রোঁর জয়

এবার তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে হবে। কেননা তাদের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারীও ওয়াশিংটন।

এছাড়া, রাশিয়া সফরে গিয়ে ইউরোপের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ করেছেন ইমরান। বেইজিং অলিম্পিকে গিয়েও একই কাজ করেছেন তিনি। ক্ষমতায় যেই আসুন না কেন, ক্ষত সারাতে তাই এখন জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে নতুন সরকারকে। 


একাত্তর/এসজে