মিয়ানমারের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে বললেন সু চি

মিয়ানমারের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চি। নোবেলজয়ী এ নেতার আইনি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত একটি সূত্র বলছে, গত বছর সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম এমন মন্তব্য করলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন এবং দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক অং সানের কন্যা সু চি। একাধিক অভিযোগে ১৫০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে তার। 

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, অং সান সু চি জনগণকে 'ঐক্যবদ্ধ' হতে বলেছেন, একে অপরের মধ্যে খোলামেলা সংলাপ করতে বলেছেন। 

সু চি আরও বলেছেন, 'প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা, আলোচনা করুন এবং ধৈর্য ধরে কথা বলুন।' 

তিনি হঠাৎ করে কেন এ ঐক্যের আহ্বান জানালেন সে সম্পর্কে সূত্রটি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি, তবে দেশটির জান্তা সরকারের সাথে সংলাপের বিষয়ে সু চি কোনো মন্তব্য করেননি। 

এ বিষয়ে একজন সামরিক মুখপাত্রের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে, তিনি তাতে সাড়া দেননি।

সূত্রটি আরও বলেছে, নগদ অর্থ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির দায়ে আগামী সপ্তাহে একটি রায় হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও সু চি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রায় ১৪ মাস আগে এক সেনা অভ্যুত্থানের ফলে দেশটির এক দশকের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং অর্থনৈতিক অবস্থান বদলে যায়। দেশটিতে এখনও সহিংসতা চলমান। 

আরও পড়ুন: প্রথমবার প্রকাশ্যে এলো ডুবন্ত রণতরী মস্কোভার ছবি

গত বছরের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন সু চি। তবে গোপনে পরিচালিত ওই বিচারকে একটি প্রতারণা হিসাবে বিদ্রুপ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এই নেত্রীকে এখনও অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে। 

জান্তা সরকার বলেছ, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ দ্বারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচার চলছে। কিন্তু জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত জানিয়েছে। জান্তা সরকারকে হত্যা ও নৃশংসতার দায়ে অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘ।


একাত্তর/আরবিএস