দুর্নীতি মামলায় সুচি'র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

সামরিক সরকার নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের একটি আদালত দুর্নীতির দায়ে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সুচিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ব্যাপকভাবে সমালোচিত এ আইনি প্রক্রিয়ার ফলে নোবেলজয়ী এ নেতাকে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হতে পারে। 

৭৬ বছর বয়সী এ প্রাক্তন নেতা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী জালিয়াতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসসহ কমপক্ষে ১৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফিও মিন থেইনের কাছ থেকে ১১.৪ কিলোগ্রাম স্বর্ণ এবং ছয় লাখ ডলার সমপরিমাণ নগদ অর্থ গ্রহণের অভিযোগে বুধবার (২৭ এপ্রিল) তার বিরুদ্ধে এ রায় দেয় আদালত।  

যদিও তার দল এসব অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছেন, সুচিকে রাজনীতি থেকে অপসারণ করতে এই প্রচেষ্টা।

এদিকে সুচিকে কোথায় রাখা হয়েছে তা জানা যায়নি। অভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার আইন প্রতিনিধিদের জন্যও গণমাধ্যমে কথা বলা নিষিদ্ধ করেছে জান্তা সরকার। 

অন্যদিকে গত মাসে স্বাধীন মিডিয়া আউটলেট 'মায়ানমার নাউ' এ ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর একটি বিরল বার্তা প্রকাশ করে। যেখানে তিনি জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছিলেন।

সূত্রটি জানায়, "তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন এবং আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছেন। বর্তমানে যদি সংলাপের পরিস্থিতি না থাকে, তবে পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগ সবাইকে পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে বলেন।" 

তার বিরুদ্ধে আরও ১০টি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতে রথযাত্রার মিছিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শিশুসহ নিহত ১১

মিয়ানমারের জান্তা সরকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশপাশি সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক চাপে রয়েছে দেশটির বর্তমান সামরিক সরকার। 

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস বার্মার তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশটিতে ১০ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি লোক আটক রয়েছে, এছাড়া মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে। 


একাত্তর/আরবিএস