ইউক্রেন আক্রমণ ও ন্যাটোর সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশন চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাও থাকছে। রুশ জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা জার্মানিও এতে সমর্থন দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সোমবার জার্মানি জানিয়েছে, রাশিয়ার তেলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞায় সমর্থন দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।
আর দেশটির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেক জানিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত তারা।
ইউরোপে জ্বালানি রপ্তানি করেই রাশিয়া যুদ্ধের তহবিল যোগাচ্ছে বলে অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর। ফলে রাশিয়াকে থামাতে জ্বালানি রপ্তানিকে হাতিয়ার হিসেবে দেখছে ইউরোপ।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্যাকেজে জ্বালানি সম্পদ থেকে রাশিয়ার রাজস্ব আয় বন্ধে পরিষ্কার পদক্ষেপ থাকা উচিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাশিয়ার গ্যাসের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমানোর চেয়ে দেশটির তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো অনেকটা সহজ। ফলে এই পথে হাঁটছে ইইউ।
অন্যদিকে ইউরোপকে সরবরাহ করা গ্যাসের মূল্য রুবলে পরিশোধ করতে হবে ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। যদিও ইইউ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে শর্ত না মানায় এরইমধ্যে বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে মস্কো। বিপাকে পড়েছে দেশ দু'টি।
সোমবার এক বৈঠকে বসে ইইউয়ের মন্ত্রীরা। গ্যাসের মূল্য রুবলে পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। গ্যাসের মূল্য রুবলে পরিশোধের মস্কোর দাবি ইইউয়ের চলতি নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হতে পারে বলে সদস্য দেশগুলোকে সতর্ক করে সংস্থাটি।
সবশেষ রাশিয়ার ১৭০ রাজনীতিকের পাশাপাশি ৬ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নিউ জিল্যান্ড। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিউ জিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নানিয়া মাহুতা ঘোষণা করেছেন, এখন পর্যন্ত ৪০০ রুশ নেতা, ধনকুবের এবং তাদের পরিবারের সদ্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। এর আগেও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি।
আরও পড়ুন: বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত
তবে এতো কিছুর পরও ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো। নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়েছে রাশিয়া, এমনটাই দাবি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের জেরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, শীর্ষ পর্যায়ের রুশ কর্মকর্তা ও রুশ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমাদেশগুলো। এতে অনেকটা চাপে পড়েছে মস্কো। তবে এসব নিষেধাজ্ঞাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না দেশটি।
একাত্তর/আরবিএস