ইউক্রেনে রুশ সেনারা মাতৃভূমি রক্ষার লড়াই করছেন উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রত্যয়ের সঙ্গে বলছেন, ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো এবারও তাদের জয় হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের ৭৭তম বার্ষিকী উদযাপনে সোমবার রুশ রাজধানী মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কোয়ারে সামিরক কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পুতিন।
ইউক্রেন যুদ্ধজয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত জানিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার যোদ্ধারা তাদের প্রিয় রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছেন। তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাও জানান তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানিকে হারানো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বীর যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও অভিনন্দনও জানান রুশ নেতা। বলেন, এবারও রুশ যোদ্ধারা জয়ী হবে।
পুতিন বলেন, রাশিয়ার যোদ্ধারা মাতৃভূমি রক্ষার লড়াই করছেন এবং এই লড়াইয়ে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এ সময় ইউক্রেনে নিহত রুশ সেনাদের প্রতিও শ্রদ্ধাও জানান তিনি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য আবারও পশ্চিমাদের দায়ী করে পুতিন বলেন, পশ্চিমের উসকানির কারণেই এই যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।
পুতিন বলেন, পশ্চিমাদের সম্ভাব্য আগ্রাসন এবং ক্রমাগত উসকানির কারণে ইউক্রেনের বিশেষ সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া।
তবে এই অভিযানের অগ্রগতি এবং কতদিন চলকে সে সম্পর্কে কোন ধরনের আভাস দেননি রুশ নেতা। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযান দীর্ঘ হতে পারে।
পুতিন জানান, পশ্চিমা দেশ ও ন্যাটোর কাছ থেকে হুমকির মুখে ছিলো তার দেশ। সেই সঙ্গে রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়াতে ন্যাটো হামলার পরিকল্পনা করছিলো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত বছর আমরা ন্যাটোর কাছে একটি প্রস্তাব রেখেছিলাম, আসুন আমরা একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেনি। তাদের ভিন্ন পরিকল্পনা ছিলো।
পুতিন আরও বলেন, ন্যাটো ক্রিমিয়াতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। তারা রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছিলো। ফলে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিলো।
পুতিন তাঁর বার্তায় জানান, ইউক্রেন এবং জর্জিয়াসহ সোভিয়েত রাশিয়ার পুরনো ১২টি রাজ্য বর্তমানে নাৎসিপন্থী হয়ে পড়েছে। আর, তাঁর সরকার রাশিয়াকে বাঁচাতে লড়াই করছে।
তিনি বলেন, তাঁর সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য নাৎসিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আর সেই কাজটিই তিনি করে যাচ্ছেন।
রাশিয়ার সর্বাধিনায়ক বলেন, ওডেসার শহীদের প্রতি মাথানত করছি। তাঁরা জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন। আমরা ডনবাসের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
তারা ফ্যাস্টিস্টদের রুখতে প্রাণ দিয়েছেন। রাশিয়াকে রক্ষা করা সর্বদা পবিত্র কাজ। কারণ, আপনি মাতৃভূমির নিরাপত্তার জন্য লড়ছেন। ডোনবাসে জনগণের জন্য লড়াই করছেন।
পুতিন আরও যোগ করেন, প্রত্যেক সৈনিক ও অফিসারের মৃত্যু আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। রাষ্ট্র এসব পরিবারের দায়িত্ব নেয়ার জন্য সবকিছুই করবে।
রেড স্কয়ারে সমবেত রুশ সেনাদের উদ্দেশ্য বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে ‘রাশিয়ার জন্য, বিজয়ের জন্য হুররা’ শ্লোগান দিয়ে ঐতিহাসিক বিজয় দিবসের ভাষণ শেষ করেন রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিন।
একাত্তর/এআর