ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পরও অক্ষত টোঙ্গার আগ্নেয়গিরিটি

টোঙ্গা দ্বীপে গত জানুয়ারিতে অগ্ন্যুৎপাত হওয়া প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত হুঙ্গা-টোঙ্গা হুঙ্গা-হা'আপাই আগ্নেয়গিরিটি এখনও বিস্ময়করভাবে অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। 

নিউজিল্যান্ডের একটি বিশেষজ্ঞ দল সম্প্রতি আগ্নেয়গিরিটির ম্যাপিং সম্পন্ন করেন। এতে দেখা যায়, অগ্ন্যুৎপাতের আঘাতে আগ্নেয়গিরিটির যে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছিলো তা হয়নি। 

অগ্ন্যুৎপাতের পরে হুঙ্গা-টোঙ্গা হুঙ্গা-হা'আপাই ও এর আশেপাশের এলাকার সমুদ্রতলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে নিউজিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফোর ওয়াটার এন্ড এটমোস্ফেরিক রিসার্চ সেখানে একটি জাহাজ নিয়ে যায়। 


অভিযানের দলনেতা মেরিন জিওলজিস্ট কেভিন ম্যাকেই বলেন, টাঙ্গারোয়া রিসার্চ ভেসেলের সোনার ডাটা থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখে বিস্মিত হয়েছেন তিনি। 

তিনি জানান, সেখানে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুল পরিমাণে ছাই ও পলি জমতে দেখা গেলেও, আগ্নেয়গিরিটি অক্ষত আছে বলে দেখা যায়।

২২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চালানো এই সার্ভের তথ্য-উপাত্ত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সমুদ্রের তলদেশে ছয় থেকে সাত ঘন কিলোমিটার পরিমাণ পদার্থ জমা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির ছাই ও পাথর। 

আরও পড়ুন: আওরঙ্গজেবকে নিয়ে যে কারণে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি

তবে গবেষকরা ধারণা করছেন, এর পুরোটাই ওই একদিনের অগ্ন্যুৎপাতে জমা হয়নি। এখনও অল্প পরিমাণে ছাই উদ্গীরন  করে চলেছে আগ্নেয়গিরিটি। 

পৃথিবীতে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে সবচেয়ে বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনাটি ঘটে এই আগ্নেয়গিরিতে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগর ও অন্যান্য মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুনামির সৃষ্টি হয়। 

অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা এতো বেশি ছিল যে, সাড়ে ষোল হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের আকাশেও ধোঁয়ার মেঘ দেখা গিয়েছিলো। 


একাত্তর/এসজে