জনসনের মদ পার্টি নিয়ে সু গ্রে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

লকডাউনের সময় করোনার বিধিনিষেধ ভেঙে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারি অফিসে পার্টি করার ঘটনায় অবশেষে প্রকাশিত হলো সু গ্রে তদন্ত প্রতিবেদন। 

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি'র খবরে বলা হয়েছে, জনসনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়িতে কিভাবে রাতভর মদ পার্টি হয়েছে এবং মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করে কিভাবে অনেকে বেসামাল আচরণ করেছেন, এক প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন সিনিয়র সরকারি আমলা সু গ্রে। 

প্রতিবেদনে গ্রে বলেছেন, সরকারের একদম শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে এমন আচরণ অনেক মানুষকে ক্রুদ্ধ ও মর্মাহত করবে। 

এ প্রতিবেদন সামনে আসার পর ব্যাপক চাপে পড়েছেন জনসন। বিরোধী শিবির ও গণমাধ্যমের প্রশ্নবাণে জর্জরিত তিনি।  

পার্লামেন্টে বিরোধী লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার এ্যাঞ্জেলা রেইনার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনসনের অফিস ডাউনিং স্ট্রিটের মাথায় পচন ধরেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পার্টির বেশির ভাগই ছিল কোনো কর্মকর্তার বিদায় উপলক্ষে বা কাজের শেষে একসঙ্গে বসে গলা ভেজানোর জন্য। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনেও এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছিল।  

ওইসব পার্টিতে যোগ দিয়েছেন এমন অনেকেই বিবিসিকে জানান, এসব পার্টিতে ৩০ জনেরও বেশি লোক ছিল। তাছাড়াও কোনো সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। এত লোক ছিল যে একজনকে আরেকজনের কোলেও বসতে হয়েছে।

গ্রে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব পার্তিকে কেন্দ্র করে এমন কিছু আচরণ করা হয়েছে যা মেনে নেয়া কঠিন। পার্টিতে এত বেশি মদ্যপান করা হয়েছে যা কখনোই কোনো পেশাদার কাজের যায়গায় উচিত নয়। অতিরিক্ত মদ্যপান করে একবার একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২০ সালের মে মাস থেকে ২০২১-এর এপ্রিল পর্যন্ত ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে মোট ১৬টি পার্টির আয়োজন করা হয়। এরমধ্যে ১২টি পুলিশ তদন্ত করেছে। এর কয়েকটিতে প্রধানমন্ত্রী যে উপস্থিত ছিলেন তার ছবিও জুড়ে দেয়া হয় রিপোর্টে।

এদিকে এসব ঘটনায় ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ শতাধিক কর্মকর্তাকে জরিমানা করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে সু গ্রের প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই পার্লামেন্টে বিরোধী দলের এমপিরা জনসনের পদত্যাগ দাবি করেন। এমনকি জনসনের কনসারভেটিভ পার্টির কিছু এমপিও তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান।

প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা কির স্টার্মার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার ব্যাগ গুছিয়ে বিদায় নেয়া। তিনি কনসারভেটিভ পার্টির এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যেন তাদের নেতাকে বলেন যে তার খেলা শেষ হয়ে গেছে।

জবাবে বরিস জনসন পার্লামেন্টে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এসব ঘটনার দায় স্বীকার করছেন। এসব থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করছেন। তবে এখন এগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি পার্লামেন্টকে জেনেশুনে বিভ্রান্ত করেননি। 


একাত্তর/আরবিএস