চীনের সংখ্যালঘু নিপীড়নের জেরে জিনজিয়ানে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২১শে জুন এ লক্ষ্যে একটি আইন কার্যকর হবে।
এছাড়া, বৈশ্বিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উইঘুরদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের গণহত্যা এবং ধর্মীয় নিপীড়নের নিন্দা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদন ২০২১ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন বলেন, মুসলিম উইঘুরসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর গণহত্যা, নিপীড়ন চালাচ্ছে চীন।
২০১৭ সাল থেকে জিনজিয়াংয়ের কারাগারে উইঘুর, সংখ্যালঘু কাজাখ, কিরগিজসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ১০ লাখের বেশি মানুষকে আটকে রেখেছে বেইজিং।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈশ্বিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক দূত রশিদ হোসেন বলেন, নিজ নাগরিকদের বিরুদ্ধে চালানো নিপীড়নের বিষয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ সরকার চুপ।
অবাক হওয়ার কিছু নেই, চীন তাদের একটি উদাহরণ। চীন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে উইঘুরদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম অব্যাহতভাবে চীনের কারাগারে মৃত্যু, নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গ্রেপ্তার, ঘুম, আটক, কারাদণ্ড, জোরপূর্বক শ্রম, নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো তাদের বিশ্বাস, অনুশাসন প্রচারের জন্য যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেসব খবর প্রকাশ করছে।
প্রাথমিকভাবে চীন জিনজিয়াংয়ে বন্দীশিবিরের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে। ২০১৮ সালে জানায়, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, ধর্মীয় কট্টরবাদ দমনে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে, ২১শে জুন থেকে চীনের জিনজিয়ানে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ কোরে আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
আইন বাস্তবায়ন কমিটির কর্মকর্তা এলভা মুনেটন বলেন, নিষিদ্ধ অঞ্চল থেকে পণ্য আমদানির জন্য অবশ্যই ছাড়পত্র লাগবে। উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমে পণ্য তৈরি নয়, এমন প্রমাণ দিলেই ছাড়পত্র দেয়া হবে।
একাত্তর/এসজে