অবশেষে গণদাবির মুখে পদত্যাপের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার পলাতক প্রেসিডেন্ট
গোতাবায়া রাজাপাকসে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
গেল শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখলে নেয়ার আগেই গোতাবায়া পালিয়ে যান।
তিনি এখন কোথায় আছে সেটি সম্পর্কে নিশ্চিত করা যায়নি। এনিয়ে সরকার পক্ষ থেকে এখনো কিছু বলেনি। তবে জানা গেছে গোতাবায়া নৌবাহিনীর একটি জাহাজে করে শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। একই ধরনের খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বিবিসিও।
অর্থনৈতিক সংকটে দেউলিয়া ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কাতে গেলো কয়েক মাস ধরেই
রাজাপাকস পরিবারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে দেশটির সাধারণ মানুষ। ক্ষমতা থেকেই এই পরিবারের
সদস্যদের সরে দাঁড়ানোর দাবিতে তাদের আন্দোলন দিনে দিনে তীব্র হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে গেলো শনিবার। এদিন দেশটির সব
অঞ্চল থেকে মানুষ ট্রেন-বাস ও লঞ্চে করে কলম্বোতে জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ঘেরাও
করে। এ পর্যায়ে পুলিশ বাধা দিলেও জনতার বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়। বাধা উপেক্ষা করে প্রাসাদে
ঢুকে পড়ে তারা।
সেই থেকে বিক্ষোভকারীরা প্রাসাদের ভেতরেই অবস্থান করছেন। তারা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে ও প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা প্রাসাদ ছেড়ে যাবেন না। পরদিন লঙ্কার স্পিকার জানান, গোতাবায়া বুধবার পদত্যাগ করবেন।
কিন্তু এই ঘোষণার পরও ধোঁয়াশা কাটছিলো না। পরে সোমবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে বলা হয়, বুধবারই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া পদত্যাগ করছেন। স্পিকারের কাছে পদত্যাপপত্র দেয়ার পরই আগামী বছর মার্চের আগে রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহের কার্যালয়ে থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি বুধবার পদত্যাগ করবেন। শ্রীলঙ্কার সংবিধান বলছে, প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এখনও তেমন কিছু হয়নি।
গেলো শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখলে নেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আগুন দেয়। এই ঘটনার পরপরই রানিল বিক্রমাসিংহেও পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
লঙ্কার বিক্ষোভকারীরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলন চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে না। তাই তারা ঘোষণা দিয়েছেন, গোতাবায়া ও রানিল আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছেড়ে যাবেন না।
শনিবারের ব্যাপক বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে এক জরুরি আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত জানানো হয়, গোতাবায়া রাজাপাকসে আগামী ১৩ জুলাই পদত্যাগ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। পরে বিক্রমাসিংহে অথবা অন্য কেউ এ পদে শপথ নেবেন।
এই সভায় বিক্রমাসিংহে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন। অনেক সংসদ সদস্য তাকে তার দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলেছেন। অনেকে তাকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণেরও আহ্বান জানান। সেসঙ্গে অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটাতে আইএমএফের সাথে আলোচনা যেতে বলেছেন।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা সাজিত প্রেমাদাসাও শনিবারের ঘটনার পর আলাদা আরেক আলোচনার আয়োজন করেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ডুল্লাস আল্লাহাপ্পেরুমাকে সমর্থন করবেন। তবে সাজিত এখন সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি।
এদিকে, সোমবার এক আলোচনা সভায় শ্রীলঙ্কার মন্ত্রি পরিষদের সব সদস্য একযোগে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনে একমত হয়েছেন। এর পরই বিক্রমাসিংহের কার্যালয়ে থেকে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয় নিশ্চিত করা হয়।
একই দিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে এক সর্বদলীয় সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া পদত্যাগ করার পর ১৫ জুলাই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে। আর ১৯ জুলাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেয়া হবে।
পরের দিন ২০ জুলাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী রানিল পদত্যাগ করার পর স্পিকার মাহিন্দ ইয়াপা আবেবর্ধনে অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য একজনকে সরকারের দায়িত্ব দেবেন।
একাত্তর/এসএ