ভারতের নতুন পার্লামেন্ট ভবনের ছাদে ব্রোঞ্জ নির্মিত জাতীয় প্রতীকের এক ভাস্কর্য উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সোমবার (১১ জুলাই) ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদ্বোধন করা হয়েছে ৬.৫ মিটার উচ্চতার ভাস্কর্যটি। ভাস্কর্যটিতে পিঠে পিঠ লাগানো চারটি এশীয় সিংহকে একটি গোলাকার চক্রের ওপর বসানো হয়েছে যা ভারতের জাতীয় প্রতীক। খবর: বিবিসি।
তবে উদ্বোধনের পরপরই এই জাতীয় প্রতীকের ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রায় ২৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের প্রাচীন ভারতীয় এক ভাস্কর্যের প্রতিলিপি এটি।
তবে সমালোচকরা বলছেন, জাতীয় প্রতীকের সিংহগুলোর চেহারায় বদল আনা হয়েছে এই ভাস্কর্যে এবং নতুন যে ‘হিংস্র’ চেহারা দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে মূল প্রতীকের সিংহগুলোর মিলও নেই।
সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ভাস্কর্য উন্মোচনের একটি ভিডিও টুইটারে প্রকাশ করেন। সাড়ে নয় হাজার কেজি ওজনের এই ভাস্কর্য নতুন পার্লামেন্ট ভবনের কেন্দ্রীয় হলঘরের ছাদে স্থাপিত হয়েছে।
ভারত সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, নতুন স্থাপিত জাতীয় প্রতীকের এই ভাস্কর্য নেয়া হয়েছে প্রাচীন ভারতের সম্রাট অশোকের রাজধানীতে পাওয়া ভাস্কর্য থেকে। প্রায় ২৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রাজত্ব করা এই সম্রাটের রাজধানীতে এই ভাস্কর্য ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলছেন মূল মূর্তিতে সিংহগুলোর যে ‘নমনীয় ও রাজকীয়’ ভঙ্গি ছিল তা নতুন স্থাপিত প্রতীকের ভাস্কর্যে অনুপস্থিত। এর বদলে এটি দেখতে অনেক বেশি ‘হিংস্র’ চেহারার হয়েছে।
দিল্লির পুরনো উপনিবেশিক আমলের সরকারি ভবন আধুনিকায়নে ভারত সরকারের দুইশ’ বিলিয়ন রুপির নতুন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নতুন পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই প্রকল্পের খরচ এবং নান্দনিকতা নিয়ে সরকারের সমালোচনায় মুখর বিরোধী দলগুলো।
সোমবার বিরোধী দল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) নেতা সীতারাম ইয়েচুরি টুইটারে বলেন, জাতীয় প্রতীকের ভাস্কর্য উদ্বোধন করে নরেন্দ্র মোদি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এর মাধ্যমে তার প্রতিনিধিত্ব করা নির্বাহী বিভাগ এবং আইনসভার মধ্যে ক্ষমতার পৃথকীকিরণকে ‘বিপর্যস্ত’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়াও এই ভাস্কর্যের উদ্বোধনের সময় পূজা করায়ও নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেন সীতারাম ইয়েচুরি।
আর বিরোধী দলগুলো বলছে এই ভাস্কর্য উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তাদের আমন্ত্রণও জানানো হয়নি।
জানা গেছে, নতুন পার্লামেন্ট ভবন এই বছরের আগস্টে উদ্বোধনের কথা ছিল। এসময়ে ভারত স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপন করবে। তবে ভবনটির নির্মাণ শেষ হতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগবে বলে পরবর্তীতে জানানো হয়।
একাত্তর/জো