'এবারের বন্যায় আমরা প্রায় ৫০ বছর পিছিয়ে গেছি'

স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ২৬৫ জনের। এখনও নিখোঁজ শতাধিক। এ বন্যায় ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা সংশ্লিষ্টদের। 

এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তানের কৃষকরা। ধ্বংসাত্মক এ বন্যায় বর্তমানে দেশটির এক তৃতীয়াংশ অঞ্চলে পানির নিচে রয়েছে। 

দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সিন্ধু প্রদেশের কৃষক আশরাফ আলী ভানব্রো বলেন, এবারের বন্যায় আমরা প্রায় ৫০ বছর পিছিয়ে গেছি।  

প্রায় দুই হাজার ৫০০ একর যায়গা জুড়ে তুলা এবং আখের চাষ করেছিলেন আশরাফ। কিন্তু বন্যার পানিতে সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

৭২ ঘণ্টা ধরে একটানা বৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, বন্যায় কমপক্ষে তার আড়াই কোটি রুপি ক্ষতি হয়েছে। এ পয়সা দিয়েই তাকে সারাবছর চলতে হতো এবং চাষের টাকাও আসতো সেখান থেকে। 

তিনি বলেন, আমাদের হাতে আর এক মাস সময় আছে। যদি সেই সময়ের মধ্যে বন্যার পানি না যায়, তবে মাঠে আর গম থাকবে না। আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে। 

শনিবার এনডিটিভি'র খবরে বলা হয়েছে, আশরাফ একা নন, তার মতো হাজার হাজার পাকিস্তানি কৃষক এখন পুরোপুরি দিশেহারা। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।  

এদিকে এ বন্যায় এখন পর্যন্ত আহত হয়েছে কমপক্ষে ১২ হাজার ৫৭৭ জন। অনেকেই প্রয়োজনমতো সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। আর বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে মোট তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষ।  

গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানে নতুন করে আরও ৫৭ জন ঝড় ও বন্যায় নিহত হয়েছে, আর আহত হয়েছে সাত হাজার ৬৮৩ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝড়-বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে পাঁচ হাজার ৫৬৩ কিলোমিটার সড়কপথ, ২৪৩টি সেতু ও ১৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

এবারের বন্যাকে দেশের "ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ" বন্যা বলছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মানুষের পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া দুই গোলা পড়লো বাংলাদেশে

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিধ্বংসী বন্যায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ভেসে গেছে ফসল। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। 

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কারণে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সংস্থাগুলোকে পৌঁছাতে সহায়তা করতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানোর একমাত্র উপায় এখন হেলিকপ্টার।


একাত্তর/আরবিএস