ব্রিটেনের রানি শুধু সেদেশের জনগণের শাষকই নন, একাধারে পশু-পাখিদেরও।
শুনতে কিছুটা অবাক হলেও এটাই রীতি দেশটিতে। তাই কোন শাসকের মৃত্যু হলে শুধু জনগণকে
নয়, পশু-পাখিকেও মৃত্যু সংবাদ পৌঁছে দিতে হয় ব্রিটেনে।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পরও এই রেওয়াজ অনুসরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রিটেনের রানির এলিজাবেথের খবর আসতেই বাকিংহ্যাম প্যালেসে ছুটে যান রাজ পরিবারের মৌমাছিপালক। সেখানেই সব মৌমাছিদের জানানো হয় রানির মৃত্যুসংবাদ।
কষ্ট হলেও, দায়িত্ব পালন করতে কষ্ট চেপেই মৌমাছিপালক জানিয়েছিলেন, রানি আর নেই। শোকের বার্তা হিসাবে বসানো হল কালো রিবনও। শুধু তাই নয়, রানির পুত্র প্রিন্স চার্লস যে নতুন রাজা হতে চলেছেন সেই সংবাদও জানিয়ে দেয়া হয়ে মৌমাছিদের।
প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি সময় রাজপরিবারের মৌমাছি প্রতিপালনের কাজ করছেন
জন চ্যাপেল। বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৯ বছর। রানির মৃত্যুর খবর পেয়েই তিনি বাকিংহ্যাম প্যালেস
ও ক্ল্যারেন্স হাউসে যান। সেখানে রাখা আছে বেশ কয়েকটি মৌচাক।
এসব মৌচাকগুলোতে যে কয়েক হাজার মৌমাছি প্রতিপালন করা হয়, তাদের রানির মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়। শোক সংবাদ জানানোর আগে মৌচাকগুলোর ওপরে শোকবার্তার চিহ্ন হিসাবে কালো রিবনও রাখা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইলকে চ্যাপেল জানান, রাজপরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে এভাবেই সেই খবর জানানোই প্রথা। রানিই যেহেতু ব্রিটেনের জনগণের পাশাপাশি পশু-পাখিদেরও শাসক, তাই তাঁর মৃত্যু সংবাদ সকল মৌমাছিকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মৌমাছিরা যে এবার নতুন শাসকের অধীনে থাকতে চলেছে,
সেই সংবাদও জানানো হয়েছে। নতুন রাজার সঙ্গে তারা যাতে ভাল ব্যবহার করে, সেই নির্দেশও
দেয়া হয়েছে। প্রথা মেনে যা যা করতে হয় সবই জেনে প্রতিপালনও করা হয়।
জন চ্যাপেল বলেন, রাজপরিবারের কারো মৃত্যু হলে প্রথা এটাই যে মৌচাকের সামনে গিয়ে যেন তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং মৌচাকের উপরে কালো রিবন দিয়ে আসা হয়। রানির মৃত্যুর পর আমিও সেই নিয়ম মেনেই মৌচাকের উপরে কালো রিবনের একটি বো রেখে আসি।
তিনি আরও বলেন, আমি সব মৌচাকে টোকা মেরে জানাই, রানি মারা গেছেন। তবে তোমাদের কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নতুন রাজা তোমাদের প্রতি ভাল থাকবে। আমি প্রথমে ক্ল্যারেন্স হাউসে গিয়ে এই খবর জানাই, এরপর বাকিংহ্যাম প্যালেসে রানির মৃত্যু সংবাদ জানাতে যাই।
একাত্তর/এসএ