ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ নামটি যেভাবে এলো

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ভারতীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ‘ইয়াস’। তবে গতিপথ বদলে করলে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলেও আঘাত হানতে পারে। 

এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হলো কিভাবে অথবা এই নামের অর্থই বা কি এ ব্যাপারেও অনেকের মনেই প্রশ্ন থেকে যায়।

যখনই ঝড় বা প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয়, তখনই সেটির একটি সাংকেতিক নাম দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। 

পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা ঝড়ের নাম ঠিক করে। ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নামটি প্রস্তাব করেছে এসবাপের সদস্য ওমান। 

ইয়াস একটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ হতাশা ও দুঃখ। এই শব্দটি ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ বিশ্বের ১৩টি দেশ নিয়ে গঠিত এসকাপের কমিটি ওমানের দেওয়া এই নামটি ঠিক করে।

ইয়াসের পর আরও যে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়েছে, সেগুলি হল গুলাব, সাহিন, জাওয়াদ, অশনি, সীতরাং, মানদৌস, মোচা।

বেশিরভাগ নামের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের চরিত্রের কোন মিল নেই। তবু রেকর্ড ও সবার বোঝার স্বার্থে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু হয় বিশ শতকের শুরু থেকে। 

পশ্চিমা আবহাওয়াবিদরা পূর্বে একই সমুদ্রের বুকে বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়কে আলাদা আলাদা নামে ডাকতে শুরু করেন। যার বেশিরভাগই ছিলো পাশ্চাত্য নারীদের নামে। 

এনিয়ে প্রথম প্রতিবাদ জানায় হংকং। তারা পশ্চিমা নামে ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখতে অপারগতা জানায়। এই পরিস্থিতিতে ২০০০ সালে জাতিসংঘ একটি সমন্বিত উদ্যেগ নেয়। 

বিশ্ব আবহওয়া সংস্থা বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা সংস্থার প্রস্তাব করে। এভাবেই গঠিত হয় এসকাপ। এই সংস্থাকে দেয়া হয় ভারত সাগরের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করতে।

প্রথম দিকে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ড এসকাপের সদস্য হয়। পরে যোগ দেয় ইরান, ইরাক, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আর পাঁচ দেশ। এই সংস্থার অধীনে ১৩ দেশ মিলেই ভূ-প্রকৃতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের কাজ সেখান থেকেই হয়ে থাকে। 


একাত্তর/এআর