তাইওয়ানকে একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। এ প্রস্তাবের পরপরই তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত। চীনা কূটনীতিবিদদেরও প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। অন্যদিকে এমন বেফাঁস মন্তব্যের জন্য মাস্ককে তিরস্কার করেছে তাইওয়ান।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তাইওয়ানের রাষ্ট্রদূত হিসিয়াও বি-খিম শনিবার এক টুইট বার্তায় বলেন, তাইওয়ান অনেক পণ্য বিক্রি করে, কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র বিক্রির জন্য নয়।
মাস্কের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য যেকোনো স্থায়ী প্রস্তাব অবশ্যই শান্তিপূর্ণ, জবরদস্তি থেকে মুক্ত এবং তাইওয়ানের জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধেও নানা পরামর্শ দিয়েছিলেন মাস্ক। যে কারণে ইউক্রেন পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। ওই ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় তাইওয়ান নিয়ে আবার বেফাঁস মন্তব্য করলেন তিনি।
শুক্রবার এক সাক্ষাত্কারে ফিনান্সিয়াল টাইমসকে মাস্ক বলেছিলেন, আমার সুপারিশ. . . তাইওয়ানের জন্য একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল খুঁজে বের করতে হবে যা যুক্তিসঙ্গতভাবে নিরাপদ, যদিও এতে সবাই খুশি হবেন না।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, চীনে মাস্কের টেসলা বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি একটি বড় কারখানা রয়েছে। ফলে চীনের সঙ্গে তার ভাল যোগাযোগ রয়েছে।
মাস্কের প্রস্তাবের পর শনিবার টুইটারে চীনা রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, তাইওয়ান প্রণালী জুড়ে শান্তির আহ্বান এবং তাইওয়ানের জন্য একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার ধারণার জন্য আমি ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ জানাতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আসলে শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন এবং 'এক দেশ-দুই ব্যবস্থা' তাইওয়ান প্রশ্নের সমাধানের জন্য আমাদের মৌলিক নীতি ... এবং জাতীয় পুনর্মিলন উপলব্ধি করার সর্বোত্তম পন্থা।
তিনি লিখেছেন, চীনের সাথে এক হওয়ার পর তাইওয়ান একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসাবে উচ্চ মাত্রার স্বায়ত্তশাসন এবং উন্নয়নের জন্য একটি বিশাল স্থান উপভোগ করবে।
চীন তাইওয়ানকে হংকংয়ের মতো স্বায়ত্তশাসনের "এক দেশ, দুই ব্যবস্থা" মডেলের প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু তাইওয়ানের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
আরও পড়ুন: ভারতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের হার বাড়লো
বেইজিং তাইওয়ানকে তার একটি প্রদেশ বলে দাবি করে। এক্ষেত্রে চীন তাইওয়ানকে তার নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তা করার জন্য শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও অস্বীকার করেনি।
যদিও গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানের সরকার চীনের সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতি তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাইওয়ান বলছে, শুধুমাত্র দ্বীপের দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষই তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে, অন্য কেউ নয়।
একাত্তর/আরবিএস