শান্তি আলোচনার জন্য ইউক্রেন যে শর্ত দিয়েছে তা অবাস্তব এবং অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তবে, রাশিয়া এখনই এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে না বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে শুরু হওয়া জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ল্যাভরভ। এ সম্মেলনে তিনি রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ল্যাভরভ বলেন, মঙ্গলবার সকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনার সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আগ্রহী রয়েছেন যাতে পুরো সংকট সমাধানের একটি পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, আমি এমানুয়েল মাক্রোঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে, সমস্ত সমস্যা ইউক্রেনের যারা সুনির্দিষ্টভাবে আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে আসছে এবং তারা এমন ধরনের শর্ত দিয়েছে যেগুলো পরিস্থিতি বিবেচনায় অগ্রহণযোগ্য, অবাস্তব এবং অপর্যাপ্ত।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, যদি কেউ আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে থাকে তবে তা ইউক্রেন। তারা যতো সময় ধরে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করবে, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো ততো কঠিন হবে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমের জেলেনস্কি জি-২০ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যে বক্তব্য রেখেছেন সে সম্পর্কে ল্যাভরভ বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসী কায়দার বক্তব্য। এছাড়া, এ বক্তব্যের মাঝ দিয়ে রুশভীতি ছড়ানো হয়েছে যা আগ্রাসী বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছু নয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে শুরু হওয়া জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিশ্বের ধনী দেশগুলোর নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অধীনে তার দেশে যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই সময়।
আরও পড়ুন: বাইকারদের জন্য পদ্মসেতু খুলে দেওয়ার দাবি
উল্লেখ্য, জি-২০ বা গ্রুপ অব টোয়েনটি হলো বিশ্বের ২০টি দেশের অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট বা গ্রুপ। ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থিতিশীলতা উন্নয়ন সম্পর্কিত নীতি আলোচনার লক্ষ্য নিয়ে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই গ্রুপের ২০ সদস্য হলো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর স্পেন এই জোটের স্থায়ী আমন্ত্রিত অতিথি।
একাত্তর/আরবিএস