সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চীনে লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ জারি করে দেশটির সরকার। এতেই চটে যান চীনা নাগরিকরা। লকডাউনের সিদ্ধান্তের পরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। চাপের মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে শি জিনপিং প্রশাসন। ‘জিরো কোভিড’ নীতির বিধিনিষেধ শিথিলের সরকারি ঘোষণার পর, বেইজিংসহ বিভিন্ন স্থানে বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র। উঠে গেছে অধিকাংশ অঞ্চলের লকডাউন।
তবে দেশটিতে থেমে নেই করোনার সংক্রমণ। ফলে করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র বন্ধের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। অনেকেই করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে চীনের জাতীয় পরিষদের যৌথ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্প্রতি এক নির্দেশে দেশের বিভিন্ন ক্লিনিক দিনরাত ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে বলেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিআরআই জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া এগুলোর কোনোটি বন্ধ করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুল-আব্বাসের জামিন শুনানি সোমবার
ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব এলাকায় জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও অপ্টিমাইজ করতে হবে। জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গযুক্ত বাসিন্দারা, নিউক্লিক অ্যাসিড বা অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হোক বা না-হোক, ডাক্তারের কাছে যেতে পারবেন।
এছাড়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে যেতে বাধ্য করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, আগত রোগীদের কোনো চিকিৎসক বা ক্লিনিক চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে চীনে প্রথমবারের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। করোনার জন্য সে সময় চীনকে দায়ি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ। যদিও পরে সে ধারণা বদলেছে।
একাত্তর/আরবিএস