আফগানিস্তানে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারী পাঁচ নারী ও তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে তালেবান।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) কাবুল থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা বিবিসি।
নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর কাবুল ও তাখারের রাস্তায় নেমে আসেন শত শত নারী শিক্ষার্থী। তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদেরকে বাধা দেয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দেশটির উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয় যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে বলে জানায় তারা।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি ও পরিবেশ নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত করার আগ পর্যন্ত তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কাবুলের রাস্তায় মিছিল করছেন কয়েক ডজন নারী। তারা প্রথমে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে সেখানে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হলে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেন তারা।
এক বিক্ষোভকারী জানান, কয়েকজন নারীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় নারী পুলিশ সদস্যরা। তাদের মধ্যে দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হলেও এখনও আটক রয়েছেন অনেকে।
বিক্ষোভরত নারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন আফগান পুরুষরাও। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন পুরুষ শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কিছু পুরুষ শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করবে না, মার্কিন কংগ্রেসে জেলেনস্কি
গত বছর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর নিজেদের শাসন ব্যবস্থায় নমনীয়তা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তালেবান। তবে এক বছরে তারা বিভিন্ন কট্টর আইন জারি করেছে।
দেশটিতে বেশ কিছুদিন আগে মাধ্যমিক স্কুলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়া হয়। এতদিন মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও তাদের জন্য বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নিয়ম চালু ছিল।
একাত্তর/এসজে