আফগানিস্তান সীমান্তে আবারও প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার (২৯ জুন) পূর্ব আফগানিস্তানে চালানো এই হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে আফগান সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবর জানানো হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হওয়ার পর, এটিই সীমান্ত সহিংসতার সর্বশেষ বড় ঘটনা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও এপির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তে করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হওয়া প্রাণঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। শনিবার রাতের ওই হামলায় বন্দুক ও বিস্ফোরকধারী জঙ্গিরা তিন সেনাসদস্যকে হত্যা করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয় এবং আহত অবস্থায় এক আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন অংশ ‘জামাত-উল-আহরার’ এই করাচি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তথ্যমন্ত্রী তারার জানান, সোমবারের বিমান হামলাটি মূলত জামাত-উল-আহরার এবং ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি-কে পাকিস্তান সরকার এই নামে অভিহিত করে)-এর গোপন আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে চালানো এই বিমান হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত বা আহত হয়েছেন।
তবে আফগান ভূখণ্ডে কোনো ধরনের জঙ্গি গোষ্ঠীর আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে শত শত মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। সে সময় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহারসহ বিভিন্ন শহরে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
পরবর্তীতে চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় মার্চ মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও সীমান্ত সংঘাত থামেনি। আফগান কর্মকর্তাদের মতে, গত জুন মাসেও পাকিস্তানি হামলায় ১৩ জন নিহত হন। এর আগে মার্চ মাসে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছিল বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এমন এক সময়ে এই হামলাটি হলো, যখন পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামানোর জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। পাকিস্তান বলছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জঙ্গিবাদ দমনের স্বার্থেই আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে এই হামলা চালানো প্রয়োজন ছিলো।
গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে দুই দেশের মধ্যকার আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার পর থেকে সীমান্তটি মূলত বন্ধ রয়েছে।
