শেষ হলো কিশিদার 'জি-৭' সফর, আবারও ঐক্যের ডাক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ফুমিও সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট জি-৭ -এর অন্যান্য নেতাদের সাথে এই বিষয়ে একমত হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। 

জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকের খবরে বলা হয়েছে, জি-৭ ভুক্ত পাঁচটি দেশ সফরের শেষ ধাপে শনিবার (১৪ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের অবস্থান স্পষ্ট করেন কিশিদা।

এসময় ফ্রান্স, ইতালি, ব্রিটেন, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সাথে আলোচনার কথা স্মরণ করে কিশিদা জানান, তিনি দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অনিশ্চিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিটি দেশের নেতাদের সাথে খোলামেলাভাবে মত বিনিময় করেছেন।

কিশিদার ভাষ্যমতে, তিনি হিরোশিমায় এই বছরের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে জাপানের ভূমিকা ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি তাদের সাথে জি-৭ -এর সারা বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এবং অন্যান্য নেতারা আইনের শাসনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টায় জোটটির ঐক্যের বিষয়টি পুনঃনিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে তার বৈঠকের বিষয়ে কিশিদা বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং পাল্টা হামলা চালানোর ক্ষমতা অর্জনসহ জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে একটি বড় পরিবর্তন করার সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট।

কিশিদা এও বলেন, তিনি এবং বাইডেন এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলগুলো একই ধারায় রয়েছে।

তার ভাষ্যানুযায়ী, একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের আগে জাপান-মার্কিন জোটের নিরোধক ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারা তাদের সংকল্প নবায়ন করে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে হিরোশিমায় অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে, জোটের দেশগুলোর নেতাদের সাথে আলোচনা করতে ফ্রান্স, ইতালি, ব্রিটেন, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু করেন কিশিদা। চলতি বছর জোটটির সভাপতি রাষ্ট্রের দায়িত্বে রয়েছে জাপান।

জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) হচ্ছে জাপান, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি সংঘ। এ সাতটি দেশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল স্বীকৃত বিশ্বের সাতটি মূল উন্নত অর্থনীতির দেশ। এরা বৈশ্বিক সম্পদের শতকরা ৬৪ ভাগের প্রতিনিধি ($২৬৩ ট্রিলিয়ন)।

আগে এটি ছিল 'জি-৮', কিন্তু ২০১৪ সালের ক্রিমিয়া সংকটে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার কারণে ২০১৪ এর ২৪ মে রাশিয়াকে জি-৮ থেকে বাদ দেয়া হয়।


একাত্ত/আরবিএস