যদি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি না থাকতো, তাহলে সন্ত্রাসবাদের আগুন এতদিন ইউরোপকে গিলে ফেলতো বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানায়, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস হওয়ার প্রতিবাদে জেনারেল সালামি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অতীতের ভুলের খেসারত ইউরোপ মহাদেশকে দিতে হবে।
ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার বাকের কলিবফের সঙ্গে এক বৈঠকের পর জেনারেল সালামি এসব কথা বলেন। আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি নিয়েই মূলত বৈঠকে আলোচনা হয়।
সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ে আইআরজিসি'র বিশেষ করে কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ভূমিকার প্রশংসা করে জেনারেল সালামি বলেন, তিনি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় ও শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা রেখেছেন। যদি আইআরজিসি উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের বিরুদ্ধে নির্মূল অভিযান না চালাতো তাহলে আমেরিকার সৃষ্টি করা এই গোষ্ঠী ইউরোপকে গিলে ফেলতো।
আরও পড়ুন: আগামী ডিসেম্বরে মাতারবাড়ি থেকে মিলবে বিদ্যুৎ
উল্লেখ্য, 'আইআরজিসি' হল ইরানি সামরিক বাহিনীর একটি শাখা যা ১৯৭৯ সালের ২২শে এপ্রিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইরানি সংবিধান অনুসারে ইরানি সেনাবাহিনী দেশটির সীমান্ত প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকে, অন্যদিকে ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (পাসদারান) ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ইসলামি শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বৈদেশিক হস্তক্ষেপ, সামরিক অভ্যুত্থান বা ভ্রষ্ট আন্দোলন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
এ বাহিনীর সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী মিলিয়ে অন্তত আড়াই লাখ সামরিক কর্মী রয়েছে। সংস্থাটির নৌবাহিনীটি বর্তমানে পারস্য উপসাগরের সক্রিয় নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত মুখ্য বাহিনী। এছাড়া এটি ৯০ হজার সক্রিয় কর্মী নিয়ে গঠিত আধাসামরিক বাসিজ মিলিশিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এর গণমাধ্যম শাখার নাম সেপাহ নিউজ।
একাত্তর/আরবিএস