ইউক্রেনকে যুদ্ধে সহায়তা করতে জার্মান ও মার্কিন ট্যাংক পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার একদিন পরেই ইউক্রেনজুড়ে মিসাইল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে মিসাইল হামলায় ৩৫টি ভবন ধসে পড়ার পর ১১ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি পরিষেবা সংস্থা।
তারা আরও জানায়, আবাসিক ভবনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কিয়েভ অঞ্চলে। এছাড়াও কর্মকর্তারা ওডেসা অঞ্চলে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার কথা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি বলেছেন, মস্কো বৃহস্পতিবার ৫৫টি বিমান ও সামুদ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
তিনি জানান, এর মধ্যে ৪৭টি মিসাইল গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি কিয়েভের আশেপাশে ছিল।
এর আগে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, তারা দেশটির দক্ষিণে আজভ সাগর থেকে রাশিয়ান বাহিনী দ্বারা উৎক্ষেপিত একগুচ্ছ ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী কিয়েভের দক্ষিণে একটি অনাবাসিক ভবনে মিসাইল আঘাত হানলে একজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়।
বৃহস্পতিবারের হামলার পর বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ কমানোর জন্য কিয়েভ এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জরুরী বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করা হয় বলে ইউক্রেনের বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ডিটিইকে জানিয়েছে।
এর একদিন আগে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ ইউক্রেনকে ১৪টি লেপার্ড ২ ট্যাংক সরবরাহ করার ঘোষণা দেন। এগুলোকে সবচেয়ে কার্যকর যুদ্ধ ট্যাংকের মধ্যে অন্যতম হিসেবে দেখা হয়। মার্চের শেষের দিকে বা এপ্রিলের শুরুতে এসব ভারী অস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনও ইউক্রেনে আব্রামস যুদ্ধ ট্যাংক পাঠানোর ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: আব্রামস ও লেপার্ড: ইউক্রেনের জন্য ট্যাংক কেনো গুরুত্বপূর্ণ?
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ট্যাংকগুলো দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পশ্চিমাদের কাছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান পাঠানোরও আবেদন জানান।
তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে প্রোগ্রামকে বলেছেন, ট্যাংকগুলোকে 'গেম-চেঞ্জার' হতে হলে এগুলোর ৩০০ থেকে ৪০০টির প্রয়োজন হবে।
একাত্তর/এসজে