দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের রক্তাক্ত সংঘাতের পর রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে নতুন আশার ইঙ্গিত দিয়েছে। রাশিয়ার দূর প্রাচ্যে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেয়ার সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় শান্তি প্রচেষ্টায় এক নতুন গতিশীলতা সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানান, যুক্তরাষ্ট ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চুক্তি সম্পাদনের একটি বাস্তব সুযোগ বর্তমানে তৈরি হয়েছে। প্রায় একই সময়ে কিয়েভে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় শান্তি আলোচনা নতুন রূপ পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন মধ্যস্থতায় শেষবারের মতো আলোচনায় বসেছিল দুই দেশ। এর পর থেকে রাশিয়ার ওপর মার্কিন কূটনৈতিক মনোযোগ কমে যাওয়া এবং ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাত শুরু হওয়ায় উভয় পক্ষই আকাশ ও সমুদ্রপথে পরস্পরের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
তবে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক সুর প্রকাশ করলেও পুতিন সতর্ক করে জানান, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।
কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলা এবং বেসামরিক বিমানে আক্রমণের হুমকিকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। এর আগে চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আকাশসীমায় ড্রোন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার আকাশপথকে অনিরাপদ ঘোষণা করে বিভিন্ন দেশের বিমার সংস্থাকে সতর্ক করেন, যদিও কিয়েভ শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে।

কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে পুতিন জানান, শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা থাকলেও উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে এখনো নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে। কিয়েভে অবস্থানরত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শান্তি প্রচেষ্টায় ভারতের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, যেকোনো উপায়ে সংকট নিরসনে নয়াদিল্লি সহায়তা করতে প্রস্তুত। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে মানবিকতার স্বার্থে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অনতিবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। দুই শীর্ষ নেতার এই আশাবাদ প্রকাশের পরপরই বিশ্ববাজারে গম ও খাদ্যাংশের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
