অস্ট্রেলিয়ায় সংরক্ষাণাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে একটি তেজস্ক্রিয় ক্যাপসুল হারিয়ে ফেলার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে মাইনিং কোম্পানি রিও টিন্টো।
সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে কিম্বারলি অঞ্চলের গুদাই-দারি খনি থেকে সিজিয়াম-১৩৭ তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্যাপসুলগুলো একটি ট্রাকে করে পার্থে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো।
প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে গিয়ে পথে কোনও এক জায়গায় একটি ক্যাপসুল কোনোভাবে ট্রাক থেকে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। রুপালি রঙের ক্যাপসুলগুলো দৈর্ঘ্যে আট মিলিমিটার লম্বা এবং প্রস্থে ছয় মিলিমিটার চওড়া।
সিজিয়াম-১৩৭ সমৃদ্ধ একটি ক্যাপসুল প্রতি ঘণ্টায় ১০টি এক্স-রে’র সমান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে। তবে সেটি ঠিক কবে ট্রাক থেকে পড়ে যায় তা স্পষ্ট নয়।
কর্তৃপক্ষ ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের কমপক্ষে ১৬ ফুট দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং বিশাল রাজ্যের কিছু অংশ জুড়ে বিকিরণ সতর্কতা জারি করেছে। তবে সাধারণ লোকজনের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে তারা।
ক্যাপসুলটি গত ১২ জানুয়ারি সাইটটি ছেড়ে যায়, এবং ২৫ জানুয়ারি রিও টিন্টো ঠিকাদার কোম্পানিকে জানায় যে সেটি হারানো গেছে। এর দুই দিন পরে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাকের কম্পনের ফলে স্ক্রু এবং বোল্ট আলগা হয়ে যায় এবং গেজ থেকে তেজস্ক্রিয় ক্যাপসুলটি প্যাকেজের বাইরে পড়ে এবং তারপর ট্রাকের ফাঁক থেকে বেরিয়ে যায়।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রিও টিন্টো।
রিও টিন্টোর লৌহ আকরিক বিভাগের প্রধান সাইমন ট্রট সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি যে এটি স্পষ্টতই অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিপদ সৃষ্টি করেছে তার জন্য আমরা দুঃখিত।’
আরও পড়ুন: ট্যাংক দিলেও যুদ্ধবিমান দেবে না জার্মানি
‘রিও টিন্টো ডিভাইসটিকে পরিবহণের জন্য নিরাপদে প্যাকেট করতে একটি তৃতীয় পক্ষের ঠিকাদারকে নিযুক্ত করেছিল, যাদের উপযুক্ত দক্ষতা এবং সার্টিফিকেট ছিল’, তিনি বলেন।
ট্রট বলেন, ‘আমরা সাইটের সমস্ত অঞ্চলের রেডিওলজিক্যাল জরিপ সম্পন্ন করেছি যেখানে ডিভাইসটি ছিল, এবং খনি সাইটের রাস্তার পাশাপাশি খনি থেকে দূরে যাওয়ার রাস্তাগুলি জরিপ করেছি’।
একাত্তর/এসজে