অস্ট্রেলিয়ার নতুন নোট থাকছে না ব্রিটিশ রাজের ছবি

অস্ট্রেলিয়া নিজেদের ৫ ডলারের ব্যাংক নোট থেকে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ছবি সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির সরকার বলছে, নতুন নোটে রানি বা বর্তমানে দায়িত্ব নেয়া রাজার ছবির জায়গায় আদিবাসীদের সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় দ্য গার্ডিয়ান।

তবে, এরইমধ্যে এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলগুলো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলের নেতা পিটার ডাটন সিডনি রেডিও স্টেশন ২জিবি-তে বৃহস্পতিবার ঘোষণার পরপরই বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর ‘একান্ত ব্যক্তিগত’ সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি এটি আমাদের সিস্টেম, আমাদের সমাজ এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর আরেকটি আক্রমণ।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল সরকার পরিবর্তনের বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছে। ৫ ডলারের অপর প্রান্তে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সংসদের ছবিটিই থাকবে।

দ্বিতীয় এলিজাবেথ ব্রিটিশ রানি হলেও সাংবিধানিকভাবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ সিংহাসনে বসেন রাজা তৃতীয় চার্লস। ফলে এখন অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন তিনি। তবে রানি মারা যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ রাজা বা রানির ‘সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান’ থাকার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক হচ্ছে।

১৯৯৯ সালে ব্রিটিশ রাজা বা রানিকে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের পদমর্যাদার পদ থেকে অপসারণে একটি গণভোট আয়োজন করা হয়। তবে ওই ভোটে বেশিরভাগ মানুষ তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদে রাখায় মতামত দেন।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ আরো ১২টি কমনওয়েলথভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা পালন করেন ব্রিটিশ রাজা বা রানি। তবে এ পদটি শুধুমাত্রই ‘আনুষ্ঠানিক।’

আরও পড়ুন: এবার এশিয়ার শীর্ষ ধনীর পদও হারালেন আদানি

এদিকে নোট থেকে ব্রিটিশ রানির ছবি সরানোর সিদ্ধান্ত এমন সময় নেওয়া হলো যখন অস্ট্রেলিয়ার মধ্য-ডানপন্থি লেবার সরকার দেশটির আদিবাসীদের স্বীকৃতি নিয়ে গণভোট আয়োজনের চেষ্টা করছে। এটি করতে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া এ নিয়ে আদিবাসীদের আলোচনাও করতে হবে যেটি তাদের জীবনে প্রভাব রাখবে।

এরআগে ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের জাতীয় সংগীতে পরিবর্তন আনে। ওই সময় জাতীয় সংগীত থেকে ‘ইয়ং অ্যান্ড ফ্রি’ কথাটি বাদ দেওয়া হয়।


একাত্তর/আরএ