হিন্ডেনবার্গ গবেষণা প্রতিবেদন

আদানি বিপর্যয়ের ধাক্কা লেগেছে ভারতের পার্লামেন্টেও

ভারতের আদানি গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামের অধঃপতনের কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটির পার্লামেন্ট ব্যাহত হয়েছে। মার্কিন শর্ট-সেলারের একটি সমালোচনামূলক গবেষণা প্রতিবেদনের পরে পদ্ধতিগত ঝুঁকির আশঙ্কায় রয়েছে গ্রুপটি। 

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ রিপোর্টে আদানি গ্রুপের ঋণের মাত্রা এবং ট্যাক্স হেভেন ব্যবহার সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার পরে সাতটি তালিকাভুক্ত আদানি উদ্যোগ তাদের অর্ধেকেরও বেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে। 

শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহযোগী আদানির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন কিছু রাজনীতিবিদ।

তারা বলেন, 'আমরা একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি চাই (তদন্ত করতে)। গরিবদের লুট করা বন্ধ করুন' ।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) গ্রুপটি তার আড়াই বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি বাতিল করার পরে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব আরও ধাক্কা খেয়েছে। গ্রুপের বিলিয়নেয়ার চেয়ারম্যান গৌতম আদানির জন্য বিশাল বড় ধাক্কা এটি।

আইনপ্রণেতারা বিষয়টির ব্যাপক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণদাতাদের কাছে গ্রুপের এক্সপোজারের বিস্তারিত জানতে চেয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে সূত্র। 

আদানি হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে তাদের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী রয়েছে, কিন্তু বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, যা শেয়ারের দামে অবিরাম পতন এনেছে।

তবে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যেই ভারতের বাজারে তাদের এক্সপোজার কমিয়ে দিচ্ছে। যদি এটি বিনিয়োগকারীদের মেজাজে বড় পরিবর্তন আনে তাহলে আদানি গ্রুপের পতন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে হিন্ডেনবার্গ বলেছে, মূল তালিকাভুক্ত আদানি কোম্পানিগুলোর 'উপর্যাপ্ত ঋণ' ছিল। এর ফলে সাতটি তালিকাভুক্ত সংস্থার শেয়ারের দাম ৮৫ শতাংশ কমেছে। আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে স্টক কারসাজির অভিযোগও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন: সম্মেলনে বসছে ইইউ ও ইউক্রেন, দ্রুত সদস্যপদের আশা নেই

তবে আদানি গ্রুপের দাবি, স্টক ম্যানিপুলেশনের অভিযোগের 'কোন ভিত্তি নেই' এবং ভারতীয় আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে এই অভিযোগ করা হয়েছে। 

৬০ বছর বয়সী আদানির জন্য এই বিপর্যয় একটি নাটকীয় মোড়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিল্পে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের জন্য বিদেশী জায়ান্টদের সাথে অংশীদারিত্ব তৈরি করেছেন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছেন তিনি৷


একাত্তর/এসজে