তুরস্ক-সিরিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৮০০ মরদেহ উদ্ধার

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সিরিয়া সীমান্তের কাছে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে শুধু তুরস্কেই মারা গেছেন ৩ হাজার ৩০০ জন। অন্যদিকে সিরিয়ায় এক হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল-জাজিরার খবরের বলা হয়েছে, এরইমধ্যে আহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও অনেকেই আটকা পড়েছেন ধ্বংসস্তূপের নিচে। চলছে উদ্ধার অভিযান। 

এর আগে তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতায় জানিয়েছিলেন, সোমবারের ভূমিকম্পে তুরস্কে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৩৭৯ হয়েছে। যদিও পরে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। 

তিনি আরও জানান, দেশটির ১০টি প্রদেশে কমপক্ষে ১৪ হাজার ৫০০ মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ৭ হাজার ৮৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ ডরমেটরি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। 


ভূমিকম্পে দেশটিতে অন্তত ৫ হাজার স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক অঞ্চলে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

অনেক অঞ্চলে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় তীব্র ঠান্ডার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে বহু মানুষকে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এসব ছবি।  

তুরস্কের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।  

আরও পড়ুন: মৃত্যু ধ্বংসপুরীতে পরিণত তুরস্ক-সিরিয়ার বিশাল এলাকা


অন্যদিকে সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, সেখানে সর্বশেষ এক হাজার ৪৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

সিরিয়ার জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত বাসাম সাব্বাগ সাংবাদিকদের বলেছেন, জাতিসংঘের মহাসচিব "আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে জাতিসংঘ এই কঠিন পরিস্থিতিতে সিরিয়াকে সহায়তা করার জন্য যথাসাধ্য করবে"।

সাব্বাগ আরও জানান, তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আন্তোনিও গুতেরেসকে সাহায্যের অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।


এর আগে স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮।

তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটিতে অবস্থিত। এর আগে সর্বশেষ ১৯৩৯ সালে তুরস্কে এ ধরনের ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেবার ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস। এ ধরনের ভূমিকম্প খুবই বিরল। 


একাত্তর/আরবিএস