একই দিনে ভয়াবহ দুই ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়া এখন মৃত্যুপুরী। এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজারের ঘর ছুঁতে চলছে। তার মধ্যে কেবল তুরস্কেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬ হাজার ২৩৪ জন, আর সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এই সংখ্যা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর খবরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে। এমনকি এটা ২০ থেকে ৩০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
দক্ষিণ তুরস্ক এবং উত্তর সিরিয়ায় বিধ্বংসী দুই ভূমিকম্পে এতো বেশি মানুষের মৃত্যুর পর সেখানে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমান করছে, তুরস্ক এবং সিরিয়া জুড়ে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ এই ভূমিকম্পের শিকার হয়েছেন।
উপদ্রুত এলাকাগুলোর যে দিকে চোখ যায়, শুধুই ধ্বংসের ছবি। উপচে পড়ছে মৃতদেহ। ভূকম্পে তুরস্ক এবং সিরিয়ার ছবিটা ঠিক এরকমই। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া দুই দেশে ভূমিকম্পের পর থেকেই শুরু হয়েছে হাহাকার। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদ এবং প্রিয়জনদের খোঁজার আর্তি।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোররাতে সাত দশমিক আট মাত্রার ভূমিকম্পটিতে তুরস্ক ও প্রতিবেশী সিরিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে বহু অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ধসে পড়ে, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ আহত ও গৃহহীন হয়ে পড়ে। মঙ্গলবারও ভূমিকম্প হয়েছে সেখানে।
ভূমিকম্প বিধ্বস্ত দুই দেশের হাসপাতালগুলোতে চলছে আহতদের আহাজারি। এক দিন আগেও যেগুলো বহুতল ছিলো, সোমবারের ভূমিকম্পের পর তা কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে বহু মানুষকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে।
একটি বিস্তীর্ণ সীমান্ত অঞ্চলের শহরগুলোতে কয়েক হাজার ভবন ধ্বসে সমতলে মিশে গেছে। ইতিমধ্যে যুদ্ধ, বিদ্রোহ, উদ্বাস্তু সঙ্কট এবং সম্প্রতি প্রাদুর্ভাবে জর্জরিত এই অঞ্চলে আরো চরম দুর্দশা নেমে এসেছে। দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়।
হিমশীতল আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পরবর্তী পরাঘাতের মধ্যেই তুরস্ক এবং সিরিয়ার উদ্ধারকারীরা মঙ্গলবার ধ্বসে পড়া ভবনে চাপা পড়া জীবিত লোকদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সীমিত রসদের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: তুরস্কের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফুটবলার আতসুকে উদ্ধার
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্প এলাকার মানচিত্রে দেখা যায়, ওই এলাকায় দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি, এদের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হবে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিলো তুরস্কের কাহরামানমারাস এবং গাজিয়েনটেপের মধ্যবর্তী এলাকা। সেখানেই ঘটেছে সবচেয়ে প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ। দুই মিলিয়ন লোকের একটি গোটা শহরেরই ধ্বংসস্তূপে এখন শুভ্র তুষারে ঢেকে আছে। তারপরও চলছে জীবনের অনুসন্ধান।
একাত্তর/আরএ