তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্প: নিহত ১৯ হাজার ছাড়ালো

দক্ষিণ তুরস্ক এবং উত্তর সিরিয়ায় সোমবারের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হবার খবর নিশ্চিত হয়েছে। বিধ্বস্ত শহরগুলোতে বহু মানুষ এখনও আশ্রয়হীন। তাদের কাছে নিরাপদ খাবার পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই।

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, তার দেশেই মারা গেছে ১৬ হাজার ১৭০ জন। আর সিরিয়াতে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিতভাবে জানা গেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতের এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশংকা করছেন।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করছে, এই পরিস্থিতিতে ভূমিকম্পের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তারা অনুমান করছে, তুরস্ক এবং সিরিয়াজুড়ে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ এই ভূমিকম্পের শিকার হয়েছেন।

দুটি দেশেই হাজার হাজার ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

সোমবার ভোররাতে গাজিয়ানতেপের কাছে সাত দশমিক আট মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।


স্থানীয় সময় প্রায় বেলা দেড়টার দিকে আরও একটি সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। কর্মকর্তারা বলেছেন যে এটি ‘আফটারশক’ ছিল না।

তুর্কি দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটিতেই তুরস্কে তিন হাজার ৪১৯ জনেরও বেশি মারা গেছে এবং আহত হয়েছে আরও ১৫ হাজার মানুষ। অন্যদিকে সিরিয়ায় ১৬০০ জনেরও বেশি লোক মারা গেছে বলে জানা যাচ্ছে।

তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আফাড তার সর্বশেষ আপডেটে জানিয়েছে, ২৪ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি জরুরি কর্মীকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, এই শীত মৌসুমে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে চারজন নিহত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, তাদের হিসেবে অনুযায়ী দুই দেশ মিলিয়ে দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভূমিকম্পের শিকার হয়েছেন।

সিরিয়ায় উদ্ধার অভিযানে ইতোমধ্যেই সমস্যা বাড়তে শুরু করেছে। রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তুরস্ক থেকে জাতিসংঘের জরুরি সাহায্য পাঠানোর পথ বন্ধ হয়ে গেছে।


একাত্তর/এসজে