ভ্লাদিমির পুতিনকে দেয়া ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মান কেড়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
তিনি বলেছেন, রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের খেতাব কেড়ে নেওয়ার 'সঠিক মুহূর্তের' জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।
২০০৬ সালে পুতিনকে লিজিওন ডি'অনার দিয়েছিলেন তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক। সামরিক এবং বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ফরাসি পদক এটি, যা ১৮০২ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রবর্তন করেন।
বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সম্মাননা প্রদানের পর ম্যাখোঁ বলেন, পুতিনের পদকের প্রশ্নটি 'প্রতীকী তবে গুরুত্বপূর্ণ' ছিল।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট তখন বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন তার সম্মানটি প্রত্যাহার করার অধিকার রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত একদিনে নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
'এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো সর্বদা অর্থবহ এবং আমি মনে করি আপনাকে সেগুলো নেয়ার সঠিক মুহূর্তটির কথা চিন্তা করতে হবে', তিনি বলেন।
তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ ফরাসি-রাশিয়ান সম্পর্কের সময়কালে পুতিনকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল।
তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুতিনের ইউক্রেনে আগ্রাসনের ফলে ব্যাপক নিন্দা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মস্কোর উপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
যদিও ম্যাখোঁ এই আক্রমণের নিন্দা করেছেন, তিনি বারবার পুতিনের সাথে ফোনে কথা বলেছেন যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার জন্য।
রাশিয়াকে তার আক্রমণের জন্য অপমানিত না করা গুরুত্বপূর্ণ, ম্যাখোঁর এমন মন্তব্যের পর অক্টোবরে তার সমালোচনা করেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বড় হামলা, সতর্কতা জারি
তবে পুতিন প্রথম বিতর্কিত বিশ্বনেতা নন যাকে ফ্রান্সের এই সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০১ সালে শিরাক তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করেন।
আসাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'দাসের' দেয়া পুরষ্কার পরবেন না, এমন কথা জানিয়ে ২০১৮ সালে সিরিয়া পুরস্কারটি ফিরিয়ে দেয়।
একাত্তর/এসজে