তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়ালো

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থামছেই না লাশের স্রোত। এ পর্যন্ত দেশটিতে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

জাতিসংঘ এবং সিরিয়ার সরকার অনুসারে তুর্কি কর্তৃপক্ষ বলছে দেশটিতে ৩৫ হাজার ৪১৮ জন নিহত হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে সিরিয়ায়। 

এদিকে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন তুরস্কের ভূমিকম্পকে এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তুরস্কের ধ্বংসস্তূপ থেকে আট হাজারেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

অপরদিকে জাতিসংঘের অনুমান, ভূমিকম্পের পর সিরিয়ায় প্রায় সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন মানুষ গৃহহীন হতে পারে। দেশ দুটিতে এই মুহূর্তে জরুরিভাবে খাবার প্রয়োজন প্রায় ৯ লাখ মানুষের। 

এদিকে এক খবরে জানা গেছে, ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তাদের উদ্ধার করা হয়।

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দেশ দুটিতে উদ্ধার তৎপরতা প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। যদিও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া লোকজনের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবুও বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী টিমের সদস্যরা। একজন উদ্ধারকারী জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপে আরও কিছু মানুষ বেঁচে থাকতে পারে।

আঙ্কারায় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, আমরা শুধু আমাদের দেশেই নয়, মানবতার ইতিহাসেও সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে এই ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। বেশিরভাগ মানুষ তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বহুতল ভবন ধসে পড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর। মোমের মতো ধসে পড়ে একাধিক ভবন। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ার বিস্তৃত এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মিসর, লেবানন ও সাইপ্রাস থেকেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।


একাত্তর/এসি