ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের কয়েক সপ্তাহ পরও থামেনি ধ্বংসস্তূপে জীবনের খোঁজ। মৃতের সংখ্যা বেড়ে চার হাজার ৫৬১ জনে পৌঁছেছে। জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে এলেও ভারী যন্ত্রপাতির সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই অব্যাহত রয়েছে উদ্ধার অভিযান।
ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, ২৪ জুন দেশটিতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত চার হাজার ৫৬১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। এছাড়া প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে বহু আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ধসে পড়েছে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১০ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে অথবা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহারের উপযোগী নয়।
ভূমিকম্পের পর হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় উদ্ধারকারী দল, সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভারী যন্ত্রপাতির অভাব, দুর্গম এলাকা এবং আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত উদ্ধার অভিযানকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও ততই কমে আসছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে সরকার ও উদ্ধার সংস্থাগুলো। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে।
বিয়ে বাড়িতে খাসি না দিয়ে মুরগি, তারপর…
বিশ্বকাপের আবহে মিষ্টির ‘মেসি’ বানিয়ে আলোচনায় ব্যবসায়ী