তুরস্কে উদ্ধার তৎপরতা বন্ধের চিন্তা-ভাবনা

তুরস্ক-সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ১৪ দিন পরও ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধারকাজ। এখন পর্যন্ত দুর্যোগে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র তুরস্কে প্রাণ হারিয়েছে ৪০ হাজার ৬৪২ জন। আর সিরিয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই মৃতের সংখ্যা ৫,৮০০ বলা হচ্ছে। 

তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ১৪ দিন পার হয়েছে। এখনো অলৌকিকভাবে ধ্বংস্তুপ থেকে উদ্ধার হচ্ছে মানুষ। দুর্যোগের ১৩ দিন পর শনিবার তুরস্কের আনতাকিয়া শহরের একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে সিরীয় পরিবারের এক শিশুসহ তিন জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। 

প্রায় দুই সপ্তাহ শিশু সন্তানকে নিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন সামির–রাগদা দম্পতি। তারা বেঁচে গেলেও পরে পানিশূন্যতায় শিশুটির মৃত্যু হয়। 

এই দম্পতির আরও দুই সন্তান ভবনধসে মারা গেছে। এদিন তুরস্কে ভূমিকম্পে নিখোঁজ ঘানার জাতীয় দলের ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান আতসুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে ভয়াবহ ভূমিকম্পে শুধু তুরস্কেই ৩ লাখ ৪৫ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট ধসে পড়েছে। এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা কত, তা নির্দিষ্ট করে বলছে না তুর্কি কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের আশায় এখনো প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন স্বজনেরা। 

প্রিয়জনকে জীবিত না পেলেও অন্তত দাফনের জন্য মরদেহ চান পরিবারগুলো। অথচ তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার রাতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাবে। জোর দেয়া হবে দুর্গতদের সহায়তায়। 

প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ায় সবশেষ পাঁচ হাজার আটশ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যদিও এই সংখ্যা কয়েকদিন ধরে একই রকম আছে।

এদিকে সময়মতো ত্রাণ না পাওয়ায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে দুই দেশের ভূমিকম্প কবলিত এলাকায়। সেই সঙ্গে চলছে তীব্র শীত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ভূমিকম্পে যারা বেঁচে গেছেন তাদের অনেকেই আশ্রয়, খাবার, পানি ও জ্বালানির অভাবেও মারা যেতে পারেন। 


একাত্তর/এআর